Indian Navy

আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নৌসেনার ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযান! অপহৃত ইরানি ট্রলার থেকে ২০ নাবিককে উদ্ধার, প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজনাথ সিংহ

অপহৃত একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টার এই অভিযানে ভারতীয় নৌসেনাকে সাহায্য করেছে ভারতীয় বায়ুসেনাও।

জলদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া ইরানি ট্রলার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩৬

আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল ভারতীয় নৌসেনা। অপহৃত একটি ইরানি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টার এই অভিযানে ভারতীয় নৌসেনাকে সাহায্য করেছে ভারতীয় বায়ুসেনাও। অভিযানের সাফল্যে নৌসেনার প্রশংসা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

গত সপ্তাহে সোমালিয়ার উপকূল থেকে ইরানি ট্রলার ‘আজিনি’ অপহরণ করেছিল ১২ জনের একটি জলদস্যু দল। গত রবিবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলবর্তী বন্দর বায়লা ও হাফুনের মাঝামাঝি এলাকা থেকে ট্রলারটি ছিনতাই করা হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ট্রলারে ২১ জন ইরানি নাবিক এবং সোমালিয়ার দু’জন নিরাপত্তারক্ষী-সহ মোট ২৩ জন ছিলেন। তবে অভিযান শেষে রাজনাথ সিংহ জানান, ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

জলদস্যুদের পরিকল্পনা ছিল, অপহৃত ট্রলারটিকে ভাসমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এডেন উপসাগর ও আরব সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে হামলা চালানো। ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার ইন্ডিয়ান ওশান’-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি অপহরণের পর পণ্যবাহী জাহাজগুলির চলাচলের সমুদ্রপথের দিকে এগোচ্ছিল জলদস্যুরা। আন্তর্জাতিক জলপথ নজরদারি সংস্থার তরফেও এই সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।

টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আনেনি ভারতীয় নৌসেনা। তবে সমাজমাধ্যমে অভিযানের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে নৌসেনার ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথ লিখেছেন, সমুদ্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবাধে জাহাজ চলাচল বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত নিজের দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্রুত অপহৃত ট্রলারটিকে চিহ্নিত করে তার গতিরোধ এবং বন্দি নাবিকদের উদ্ধারের জন্য নৌসেনার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমালিয়ার জলদস্যুদের দাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে সোমালিয়া সরকারের তৎপরতায় তাদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জলদস্যুরা। বিশেষ করে এডেন উপসাগর এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গত এপ্রিল থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে বলে খবর।

জলদস্যুদের হামলার ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষী হয়েছে কলকাতাও। গত সেপ্টেম্বরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি অনার ২৫’-এ হামলা চালিয়ে পাঁচ নাবিককে হত্যা করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা মোহম্মদ তানভীর উজ জমান। তাঁর সঙ্গে জাহাজে ছিলেন আরও ১৬ জন নাবিক। মোগাদিশুতে ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল পৌঁছে দেওয়ার পথে হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি। তানভীর ছাড়াও মায়ানমারের এক এবং পাকিস্তানের তিন নাগরিককে হত্যা করা হয়। ঘটনায় আহত হন আরও এক ভারতীয় ও তিন পাকিস্তানি নাগরিক।

ফলে আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার এই অভিযান শুধু অপহৃত নাবিকদের উদ্ধারই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে নজর কাড়ল।


Share