Nitin Nabin

ইন্ডি জোটের নেতারা হতাশায় ভুগছেন, কটাক্ষ বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনের, দিমাগি নকশালদের উপড়ে ফেলার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

ভিনরাজ‍্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি সেরে কলকাতায় আসেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরেই কলেজ স্ট্রিট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়েই পদযাত্রা শুরু করেন।

(বাঁ দিক থেকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:০১

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রামলীলা ময়দানে সভা করেছে ইন্ডি জোটের নেতারা। পাল্টা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ যাত্রা করেছে বিজেপি। সোমবার বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। ইন্ডি জোটের নেতাদের কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, তাঁরা এতবার নির্বাচনে হেরেছেন বলে হতাশায় ভুগছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি দেশের মানুষের হয়ে কাজ করছে। ইন্ডি জোটের নেতারা অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে। তাই নির্বাচনে মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে। অন‍্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবার কমিউনিস্টদের আক্রমণ শানিয়েছেন। উপড়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন।

ভিনরাজ‍্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি সেরে কলকাতায় আসেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরেই কলেজ স্ট্রিট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়েই পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলে ২৫ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ইন্ডি জোটের নেতারা মূলত তিনটি বিষয় থেকে বাঁচতে এ সব করছে। বলেন, “‘জেলযাত্রা’, ‘দুর্নীতি থেকে বাঁচা’, ‘জামাতিদের রক্ষা’ করতে তাঁরা এ সব করছে।” সবকটি পরিবারবাদীরা এক হয়েছে বলেও তিনি কটাক্ষ করে। এর পরেই তিনি আবার কমিউনিস্টদের আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিমাগি নকশাল, টুকরে-টুকরে গ‍্যাং, জঙ্গি, মাওবাদী এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের উপড়ে ফেলতে হবে। ফলতা, রেজিনগর নন্দীগ্রামের মানুষ জবাব দিয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাতেও বিজেপি জিতবে।”

সভামঞ্চ থেকে ইন্ডি জোটের নেতাদের কটাক্ষ করেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, ইন্ডি জোটের নেতারা রবিবার দিল্লিতে কাঁদতে এসেছিলেন। সামনেই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে এ বারও বিজেপি বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। তিনি অখিলেশ যাদবকে কটাক্ষ করে বলেন, “আগের বারও অখিলেশ যাদব ধুলো চেটেছেন। এ বারের নির্বাচনেও তিনি ধুলো চাচবেন।”

মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআরের বিরুদ্ধে ইন্ডি জোটের নেতারা দিল্লিতে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করছে। নিতিন নবীনের দাবি, এসআইআরের কারণে কংগ্রেস হারেনি। তাঁরা গরিব মানুষের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “তাঁরা গরীব মানুষের জন‍্য ভাবেন না। বরং গরীবদের হটানোর জন্য কাজ করে। নিজের পরিবারের সদস্যদের কথা ভাবেন। নরেন্দ্র মোদী গরীবের পাশে থাকেন। দেশের মানুষের পাশে থাকেন। তাই নির্বাচন জেতেন।”

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরালামেও এসআইআর হয়েছে। সেখানে কংগ্রেস জয়লাভ করেছে। নিতিন নবীনের প্রশ্ন, “এসআইআরের কারণে যদি হেরেছেন, তা হলে কেরলামে জিতলেন কী করে? যেখানে হারেন সেখানেই বলেন কমিশনের জন্য হেরেছেন। আপনাদের হারের কারণ এসআইআর নয়। তাই স্বাভাব পরিবর্তন করুন।"

নিতিন নবীন আরও বলেন, "আপনারা অনুপ্রবেশকারীদের ভোট পাওয়ার আশাতে নির্বাচনে লড়েন। তা হল মানুষ আপনাদের ওপরে ভরসা কী করে রাখবে। ৪মে পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। রাজ‍্যের মানুষ মোদীর সাথে রয়েছে।" ২০২৯ সালের নির্বাচনেও নরেন্দ্র মোদী আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। আবার লালকেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলন করবেন বলেও দাবি করেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন।


Share