Allegation of Assault

দিল্লিতে কাজে গিয়ে অত্যাচারের অভিযোগ, চুঁচুড়া হাসপাতালে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের

পরিবারের দাবি, সারা শরীরে ক্ষত ও পোড়ার দাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। ঘটনায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চুঁচুড়া থানার দ্বারস্থ হয়েছে মৃতের পরিবার।

মৃতের নাম বিধান ওঝা
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪০

দিল্লিতে রঙের কাজ করতে গিয়ে অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক! শরীরজুড়ে ক্ষত ও পোড়ার দাগ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর হাসপাতালে মৃত্যু হল চুঁচুড়ার বাসিন্দা বিধান ওঝার (৪৫)। পরিবারের অভিযোগ, দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের বাসিন্দা বিধান প্রায় পাঁচ মাস আগে এলাকারই এক ঠিকাদারের সঙ্গে দিল্লির চন্দন হোলা এলাকায় রঙের কাজ করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও নয় বছরের ছেলে। কাজের সূত্রে বাইরে থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিধানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে ঠিকাদারের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিধান। এরপর তাঁকে দেখতে দিল্লিতে যান তাঁর স্ত্রী। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বিধানের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে ঠিকমতো কথা বলার মতো অবস্থাতেও তিনি নেই।

গত ১০ অক্টোবর ট্রেনে করে বিধান বাড়ি ফেরেন। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে কল্যাণীর এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শয্যা না পাওয়ায় তাঁকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিধানের বোন বিথিকা মল্লিক ও ভাগ্নি রিয়া মল্লিকের অভিযোগ, দিল্লিতে থাকাকালীন বিধানের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, ভিডিও কলের মাধ্যমে নিয়মিত কথা হত বিধানের সঙ্গে। কিন্তু পরে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের আরও সন্দেহ, বিধানকে কোনও মাদকজাতীয় পদার্থ খাওয়ানো হত।

পরিবারের অভিযোগ, বিধানকে কাজে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রশান্ত হালদার। তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি পরিবারের। প্রথমে বিধানের জ্বর হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে তাঁর অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, বিধানের সারা শরীরে ক্ষত ছিল। এমনকী, তাঁর পশ্চাৎদেশেও পোড়ার দাগ দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অত্যাচার করা হয়েছিল বলেই সন্দেহ পরিবারের সদস্যদের। যদিও ঠিক কী কারণে তাঁর এই শারীরিক অবস্থা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত ও প্রকৃত কারণ জানতে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিধানের পরিবার।


Share