Fly Dubai

ফ্লাইদুবাই বিমানে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র? গ্রেফতার আরও দুই পাইলট, ক্রু সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নতুন অভিযোগ

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইট FZ1073-এ এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৮

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণ এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার তদন্তে নতুন মোড়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারী সংস্থাগুলি আরও দুই মালদ্বীপের পাইলটকে আটক করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মূল অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়।

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইট FZ1073-এ এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীদের সহায়তায় অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

যাত্রীদের বয়ানে নতুন অভিযোগ

এ দিকে, বিমানের যাত্রী আসাফ রাজুয়ানের বক্তব্য ঘিরে ক্রু সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটকে রাখার পর কয়েকজন ক্রু সদস্য তাঁর বাঁধন আলগা করার চেষ্টা করেছিলেন। যাত্রীদের ছবি বা ভিডিও তোলাতেও বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

আরও গুরুতর অভিযোগ, আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেনের মুখে একটি অজ্ঞাত বড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিমানে কেবল পুরুষ কেবিন ক্রু রাখার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে এগুলির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিলেছে কি?

দুই অতিরিক্ত পাইলটকে আটকের খবর তদন্তের পরিধি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তাঁদের পূর্ববর্তী ইজরায়েলগামী উড়ানের অভিজ্ঞতা বা মূল অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচিতি থাকাই কোনও অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষের তদন্তে মূল অভিযুক্তের উদ্দেশ্য, ঘটনার পূর্বপরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত পুরো বিমান সংস্থার কর্মীদের মধ্যে কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর মতো যাচাইকৃত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

তদন্তের মূল প্রশ্ন: এটি কি এক ব্যক্তির পরিকল্পিত হামলা, নাকি এর পিছনে আরও কেউ যুক্ত ছিল? উত্তর মিলবে তদন্তের পরবর্তী তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে।


Share