Murder Case

পঞ্জাবের মাদকবিরোধী কর্মীকে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র উত্তপ্ত মানসা, অভিযুক্তের ওষুধের দোকান ভাঙচুর, আগুন ধরাল বিক্ষুব্ধ জনতা

দিনদুপুরে মাদকবিরোধী কর্মীকে গুলি চালানোর ঘটনায় পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামনেই পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন হবে। তার আগে এমন ঘটনা নিয়ে আপ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৫

মাদকবিরোধী কর্মী পারবিন্দর সিংহ ঝোটার মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত পঞ্জাবের মানসা। খুনে অভিযুক্তের ওষুধের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বাড়ির সামনের জেলা প্রশাসন অংশও ভেঙে দিয়েছে।

বুধবার দুপুর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাদকবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ পারবিন্দর সিংহ ঝোটা গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন করা হয়। অভিযোগ, মানসার প্রধান রেল ক্রসিংয়ের কাছে একটি ওষুধের দোকানের মালিক অশ্বনী কুমারের সঙ্গে বচসার জেরেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ওই দোকানে নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রির অভিযোগ নিয়ে ঝোটার সঙ্গে আগেই দোকানমালিকের সংঘাত হয়েছিল বলে রেঞ্জের ডিআইজি জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় তাঁর আরও চার সঙ্গী গুলিবিদ্ধ হন।

এর পরেই বুধবার বিক্ষুব্ধ জনতার একটি দল, যাদের মধ্যে কয়েক জন নিহাংও ছিলেন, তাঁরা অভিযুক্তের দোকানে চড়াও হয়। লোহার রড, লাঠি ও তলোয়ার দিয়ে দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে দোকানটি ভেঙে ফেলা হয়। তার পরেই দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিল। তার পরেও এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সামান্য সংঘর্ষও হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, মানসার বীরনগর এলাকায় অভিযুক্ত অশ্বনী কুমারের বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে দিয়েছে পঞ্জাবের জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী অভিযোগের ভিত্তিতেই বাড়িতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদি আগে থেকে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ছিল তা হলে আগে থেকে মাদকপাচারকারীর বাড়ি কেন ভাঙা হল না, ঘটনার পরেই কেন অশ্বনীর বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হল তা নিয়ে আম আদমি পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে, ঝোটা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অশ্বনী কুমারকে রাজস্থানের সালাসার থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুলিচালনার ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গোটা ঘটনাটি ঝোটার ফেসবুক লাইভেও কিছুটা ধরা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জখমদের বয়ান রেকর্ড করা বলেছে।

মাদকাসক্তি এবং নেশাজাতীয় ওষুধের বেআইনি বিক্রির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন ঝোটা। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে মানসায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিন শহরে বনধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, ঝোটার দেহ এখনও সিভিল হাসপাতালে রয়েছে। সেখানেই ময়নাতদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।

দিনদুপুরে মাদকবিরোধী কর্মীকে গুলি চালানোর ঘটনায় পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামনেই পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন হবে। তার আগে এমন ঘটনা নিয়ে আপ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


Share