Middle East Crisis

সৌদি আরবের মানুষের মধ্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরির আশঙ্কা, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার ইজরায়েলের প্রস্তাব ফেরালেন যুবরাজ

সৌদি আরবের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার ইজরায়েলের প্রস্তাব খারিজ করেছেন যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। প্যালেস্টাইন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মহম্মদ বিন সলমন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক।, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৯

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যোগ দিতে চেয়েছিল তেল আভিভ। দেশের মানুষের ওপর ‘বিপরীত প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি হতে পারে। এমন আশঙ্কায় ইজরায়েলের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন। এই সব সম্ভাব‍্য কারণে জানানো হয়েছে আপত্তি।

কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, আমেরিকার মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের কাছে সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিল ইজরায়েল। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও মজবুত করাও ছিল তেল আভিভের লক্ষ্য। ইজরায়েল মনে করছে, এই সামরিক সহযোগিতার হাত ধরেই ভবিষ্যতে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ প্রশস্ত হবে। কিন্তু ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারের্ৎজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কাতেই ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তেল আভিভের প্রস্তাব তাঁরা খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের সঙ্গে ইজরায়েলের এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু রিয়াধের অবস্থান স্পষ্ট দাবি ছিল, প‍্যালেস্টাইন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা নিশ্চত করতে হবে। যদি তাঁদের শর্তে না রাজি হয় ইজরায়েল তা হলে তেল আভিভের সঙ্গে সৌদি আরব কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। অন্য দিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাবে বিরোধিতা করে আসছেন।

তবে সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের অনুমোদন ছাড়া সৌদির সামরিক অভিযানে ইজরায়েলের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। হারের্ৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৩ সালের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল।

অন‍্য দিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে আগাম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে সেই সতর্কবার্তা পেয়েও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ করেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উঠে এসেছে।


Share