False Treatment in Siliguri

ডাক্তারের হাতের লেখা ‘অবোধ্য’, অভিযোগ জানাতে গিয়ে হাসপাতাল সুপারের কাছে অপমানিত রোগীর পরিবার

এ বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পুরো বিষয়টিই ভিত্তিহীন। তবে অভিযোগ লিখিত আকারে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:০২

ডাক্তারের হাতের লেখা সঠিকভাবে বোঝা যায় না অনেক সময়তেই। এবার এমনই এক অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রেসক্রিপশন বুঝতে পারছিলেন ওষুধ বিক্রেতারা। রোগী সেই অভিযোগই জানাতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। অভিযোগ, সেখানে গিয়েই হাসপাতালের সুপারের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে রোগীর পরিবারকে।

শিলিগুড়ির বাসিন্দা দীপালি সরকার চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি বহির্বিভাগের পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাঁকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একটি ওষুধ লিখে দেন। সেই ওষুধ সেখানে না থাকার দরুণ ওষুধের দোকান থেকে কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রোগীর আত্মীয় বিশ্বজিৎ তালুকদারের দাবি, ওই প্রেসক্রিপশন নিয়ে শহরের একাধিক ওষুধ দোকানের ঘুরেও ওষুধ কিনতে পারেননি। কারণ, ডাক্তারবাবুর লেখার বুঝে উঠতে পারেননি কোনও ওষুধ দোকানদার।

পরপর দু'দিন সরকারি ছুটি চলায় রোগী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। মঙ্গলবার বিশ্বজিৎ প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে হাসপাতালের সুপার চন্দন ঘোষের দ্বারস্থ হন। রোগীর ওই আত্মীয়ের অভিযোগ, ‘‘সমস্যার সমাধান করা তো দূরের কথা, উল্টে প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন সুপার। তার পর ‘যা করার করে নাও’ বলে ধমকি দেন।” হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকেরাও ‘এটা ছোট হাসপাতাল’ বলে দায় ঝেড়ে ফেলে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তবে এ বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পুরো বিষয়টিই ভিত্তিহীন। তবে অভিযোগ লিখিত আকারে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই ঘটনার পর অস্বস্তির মুখে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ আগামী রবিবার আবার ওই রোগীকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে হাসপাতালের অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনেরা।


Share