TMC Political Crisis

সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতায় বাদ পড়ল মহুয়া, রাজীব, কীর্তিরা! মমতার সঙ্গে কথা কাটাকাটি, সভামঞ্চ থেকে নেমে সোজা বাড়ি চলে গেলেন কল‍্যাণ

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ২১ জুলাই পালনের জন্য মঞ্চ বেঁধেছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। সেখানে বক্তৃতা করেছিলেন কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ২২ মিনিট বক্তৃতা করেন তিনি।

শহিদ দিবসের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:১৭

নিজের বক্তৃতা শেষ করে সোজা নিজের বাড়িতে চলে যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য না শুনেই তিনি কালীঘাটের বাড়িতে চলে যান। তার আগে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তার পরেই তিনি সভামঞ্চ ত‍্যাগ করে এলাকা ছেড়ে দেন। সাংসদের বক্তব্য, তিনি সেই সময় অসুস্থ বোধ করছিলেন। তাই তিনি সভামঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বাদানুবাদের প্রশ্ন নেই।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ২১ জুলাই পালনের জন্য মঞ্চ বেঁধেছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। সেখানে বক্তৃতা করেছিলেন কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সূত্রের খবর, দলীয় সাংসদদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল। বক্তৃতা রাখার তালিয়ায় ছিলেন মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, সাগরিকা ঘোষ, রাজীব কুমার, দোলা সেন। কিন্তু ২২ মিনিট ধরে কল‍্যাণই বক্তব্য রাখেন।

এর ফলে তালিকায় থাকা বাকিরা বাদ পড়েন। সেই সময়ই মঞ্চে উপস্থিত হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় কল্যাণ কিছুটা থেমে যান। তার পরে আবার বক্তৃতা শুরু করেন। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সূত্রের খবর, মঞ্চ থেকে নেত্রী সাংসদকে বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করার জন্য বলেন। তা-ও শোনেননি কল‍্যাণ। এর পরেই কুনাল ঘোষ নিজে আসরে নামেন। আরেকটি সূত্রের দাবি, এর পরেই কল‍্যাণকে ধমকের সুরেই বলেন মমতা। বেশ ক্ষণিক সময় ধরে ‘কথা কাটাকাটি’ হয়। তার পরেই নেত্রীর বক্তব্য না শুনেই সভামঞ্চ থেকে নেমে আসেন। সোজা কালীঘাটের নিজের বাড়িতে চলে যান। 

কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যাওয়ার পরে বক্তব্য রাখেন সৌগত রায়, প্রিয়াঙ্কা অধিকারী, উপাসনা চৌধুরী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বশেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কল‍্যাণ জানান, তিনি সোমবার সারারাত জেগেছেন। তাই তাঁর শরীর খারাপ। জ্বর এসেছে। তাই বক্তব্য শেষ করে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “বচসা হলে কি মঞ্চের সামনে গিয়ে ও ভাবে বক্তৃতা করতাম?” যদিও বক্তৃতার পরেই মমতার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে খবর। পরে যদিও বরফ গলে যায়। অভিষেক জানান, কল্যাণের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। কল্যাণও বলেন, “অভিষেক আমার সন্তানসম।”

পালাবদলের পরে তৃণমূল ভেঙে গিয়েছে। একের পর এক দলীয় বিধায়কেরা মমতা-অভিষেকের হাত ছেড়েছেন। তাঁরা বেশিভাগই দলের নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ হিসেবে অভিষেককেই দায়ী করেছেন। লোকসভাতেও তৃণমূল ভেঙেছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। সেই দল আবার বিজেপির সঙ্গেও মিশে যেতে পারে বলে খবর সামনে আসছে। এ বার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে খোদ নেত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হল কল্যাণের। যদিও সাংসদ নিজে তা স্বীকার করেননি। তার পরেও প্রশ্ন উঠছে, এই টানাপড়েনে কি আগের মতোই ইতি পড়বে, না কি অন্য সহকর্মীরা যে পথে হেঁটেছেন সেটাই এ বার অনুসরণ করবেন কল্যাণ। 


Share