TMC Political Crisis

বিধানসভায় দুই তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, কুণাল ঘোষকে অধিবেশন কক্ষ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দিলেন মার্শালরা

আখরুজ্জামানের বক্তৃতায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে স্পিকারের নির্দেশে কুণাল ঘোষকে মার্শালরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন।ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেন।

বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হলো কুনাল ঘোষকে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৯

২১ জুলাইয়ের দুই পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। তারই রেশ এবার দেখা গেল বিধানসভার অধিবেশনেও। বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার মার্শালদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কুণাল ঘোষকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে ওঠেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিধায়ক আখরুজ্জামান। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর বক্তৃতায় বাধা দিতে নিজের আসন ছেড়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ান কালীঘাট শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন?” আখরুজ্জামান বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কুণাল বারবার একই অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রী। স্পিকার রথীন্দ্র বসু বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যেতে বলেন। সতর্ক করে জানান, নির্দেশ না মানলে তাঁকে কক্ষের বাইরে পাঠাতে বাধ্য হবেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

এরপর স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা কুণাল ঘোষকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে একসময় কুণাল মেঝেতে পড়ে যান। পরে মার্শালরা তাঁকে তুলে অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাট শিবিরের বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেন।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ না করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “অসভ্যতার একটা সীমা থাকে। আমরাও বিরোধী আসনে ছিলাম, কিন্তু এই ধরনের আচরণ কখনও করিনি। এগুলো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এরপর শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণাল ঘোষকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে সায় না দিয়ে বলেন, “আজকের দিনের জন্য সাসপেন্ড করাই যথেষ্ট। কাল তিনি আসতে পারেন। আবার একই ধরনের আচরণ করলে তখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অযথা সাসপেন্ড করে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

এ দিকে কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তাদের তালিকা থেকে তাঁদের ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের নাম বাদ দিচ্ছেন। শুধুমাত্র ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদেরই বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার একই অভিযোগ তুলেছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন, তাঁদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না কেন।

এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার নিয়ম ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক যে তালিকা জমা দেন, সেই তালিকা অনুযায়ীই স্পিকার বক্তাদের ডাকেন। দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ থাকলে তিনি তা নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, তাঁদের ঘরের সমস্যা বিধানসভা বা মুখ্যমন্ত্রী মেটাতে পারবে না।


Share