Rahul Gandhi

মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নার আগেই আটক রাহুল-অখিলেশ, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে বাদল অধিবেশনের শুরুতেই তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

উপস্থিত ছিলেন কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, কেরলের বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশন এবং এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে।

মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নার আগেই আটক রাহুল-অখিলেশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৯

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে, বিশেষ করে লোককল্যাণ মার্গ এলাকায় অবস্থান-বিক্ষোভ না করার বার্তা দিলেও তা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা-সহ কংগ্রেসের সাংসদেরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। তবে সন্ধ্যাতেই বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে বাসে তোলে।

দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসার আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল এক্স হ্যান্ডেলের এক পোস্টে লেখেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি মনে করেন যে তিনি কোনও জবাব না-দিয়েই, কোনও পরিণতির মুখোমুখি না-হয়েই পার পেয়ে যাবেন- পারবেন না, এ বার তো একেবারেই না। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।’’

কংগ্রেস সাংসদদের পাশাপাশি মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হওয়া ধর্না-বিক্ষোভে যোগ দেন কংগ্রেসশাসিত দুই রাজ্যের শীর্ষ নেতারাও। উপস্থিত ছিলেন কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, কেরলের বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশন এবং এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোককল্যাণ মার্গের সরকারি বাসভবনের অদূরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ সেখানে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ধর্না না চালানোর অনুরোধ জানান তিনি। পরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আবার ধর্নাস্থলে ফিরে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। ফিরে এসে জিতেন্দ্র সিংহ কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানান, ধর্না প্রত্যাহারের জন্য অমিত শাহ আবেদন জানিয়েছেন।

তবুও অচলাবস্থার অবসান হয়নি। সূত্রের খবর, চার দফা দাবিতে রাতভর ধর্নায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কংগ্রেস। তাদের দাবির মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, পুলিশি পদক্ষেপের জন্য মোদী সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং বাদল অধিবেশনে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা। তবে এখনও পর্যন্ত এই দাবিগুলি মানার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, সরকার প্রথমে সংসদে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনায় রাজি ছিল। কিন্তু পরে কংগ্রেস অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তোলে এবং সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

প্রসঙ্গত, মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। পরিস্থিতির জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ দিন থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সেই সময় সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদেরা।

সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দমনমূলক ভূমিকা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এক মাস আগে যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া সিজেপির আন্দোলনকে প্রথমে গুরুত্ব দেয়নি কেন্দ্র। তবে আন্দোলনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের যোগদান, তাঁর টানা অনশন, ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এবং সোমবার সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি বদলায়। এরপর আন্দোলনের সমাধানসূত্র খুঁজতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিক্ষোভ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে তিনি দফায় দফায় সিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংগঠনের দাবিগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। সিজেপির দাবি অনুযায়ী, সেই আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এ দিকে, এই আন্দোলনে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সমর্থন এবং রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে আটকের ঘটনাকে ঘিরে সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।


Share