Suvendu Adhikari

‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান মেটানোর দায়িত্ব আমার,’ অভিষেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি মুখ‍্যমন্ত্রীর

অভিষেককে কটাক্ষ করে কখনও ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ আবার কখনও ‘চাম্পিয়ন সাংসদ’ এবং ‘সিনেমার হিরো’ বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩০

‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম এ নিশান মেটাব।’ বিধানসভা অধিবেশন থেকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে একাধিক ঝাঁঝালো আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের শহিদ দিবসের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গদ্দারি বা বেইমানি করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না দাবি করে তিনি বলেছিলেন, “বাংলা থেকে বিজেপিকে উৎখাত করব। এই কথা দিয়ে গেলাম। কী করবে বিজেপি? জেলে ভরবে? মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে? ফাঁসাক। তবু মাথা নত করব না। এর কারণ আমার মেরুদণ্ড বিক্রির জন্য নয়।”

এ ছাড়াও, একই সঙ্গে কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে। ২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেবে।” ওই মঞ্চ থেকে কুকথা এবং হুমকি-চ‍্যালেঞ্জ শুনেছে রাজ্যবাসী।

বুধবারের এই সমস্ত রাজনৈতিক ভাষণের প্রেক্ষিতে বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে ভাইপো (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) প‍্যারাসুটে নেমেছে। আবার ভাইপো বলছে, সব নোট করে রাখতে। ২০৩১ সালের নির্বাচনে হিসেব হবে।” মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরেই জানান, “কালকে আপনারা অনেক বড় কথা বলেছেন। আয় শুভেন্দু, আয় অমিত শাহ। ৪মে-র পরে ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এখানে থাকতে বলেছিলেন। রাজ‍্যবাসীরাই লোকেরা ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে।”

গতকালের সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন মমতা। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “পিসি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেন, ৪০০ মামলা করার পরেও ছেলেটা (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) আমার ভয় পায়নি। ওটা (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বাঘ না বেড়াল! আপনারা ফলতাকে একবার দেখেছেন। আরও যত দিন যাবে তত দেখবেন। যত চুরি-ডাকাতি করেছেন সব গর্ত খুঁড়ে বের করব। রাজ‍্যকে সুরক্ষিত করব বলে গুন্ডা দমন আইন এনেছি। ভবিষ্যতে শাহজাহান-জাহাঙ্গির-শওকতেরা যাতে ভোটকে দখল করতে না পারে সেই জন্যই এই আইন। এই আইন দ্বারা চিরকালের জন‍্য গুন্ডারাজ বন্ধ করব।”

এর পরে একাধিক কটাক্ষ এবং হুঁশিয়ারি তৃণমূলের কালীঘাটপন্থীদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অভিষেককে কটাক্ষ করে কখনও ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ আবার কখনও ‘চাম্পিয়ন সাংসদ’ এবং ‘সিনেমার হিরো’ বলে কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই সরকার ‘ভদ্র’। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পকেটে হাত ঢুকিয়ে সিনেমার নায়কের মতো দু’হাজার লোকের সামনে হাত নাড়তে পারছেন। আবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওই ছোঁড়াকে (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বলছি— প্রতিষ্ঠিত চোর একটা। জেলে যাবেন না বাইরে থাকবেন পরে জানা যাবে। তবে আপনি ডায়মন্ড হারবারের দাঁড়ান। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলমান ভোট আছে। যত ভোটে আপনি জিতেছেন তত ভোটে হারাব। এটা মিলিয়ে নেবেন। জাহাঙ্গির খানের থেকে খারাপ অবস্থা আপনার করব। ফুটানি। আন্তর্জাতিক নেতা।”

তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদারের উদ্দেশ্যে বলেন, গত ৪মের পরে ডায়মন্ড হারবার গিয়েছেন? পান্নালাল হালদারবাবু আপনাদের চ‍্যাম্পিয়ন সাংসদকে নিয়ে যান।  ফলতার পরীক্ষা হয়েছিল। ৪মের পরে আপনি জোকা পার হননি। আপনি আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক। গুরুর গাড়ির হেডলাইটের মতো। ফলতাতে নির্বাচন হয়েছিল। তথাকথিত পুষ্পা সেখানে দাঁড়িয়েছিল। আপনি প্রচারে গিয়েছিলেন? যাননি। ভোটে লড়ুন। কোথায় থাকবেন তা নিজেই দেখে নেবেন।” ভোটের পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুঁজতে ‘দুরবিন লাগবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালিঘাটপন্থীদের শহিদ দিবস নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওটা একটা ছোট জায়গায়। কত লোক হয়েছে? পুলিশ আমাকে রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হবে।” এর পরেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০৩১ সালের আগে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসেব হবে। আপনি কি ভেবেছেন? যত সময় যাবে সব বন্ধ হয়ে যাবে! তা হবে না। এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।”


Share