SIR Death Row

এসআইআর আতঙ্কে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদহের রাজনীতি, বিতর্কিত মন্তব্যে তৃণমূল জেলা সভাপতি

এসআইআর আতঙ্কে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদহ। ধিক্কার সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় তোলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। পাল্টা আক্রমণে বিজেপি।

কুশপুত্তলিকা দাহ
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৪

ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদহ জেলার রাজনীতি। বুধবার মালতিপুর বিধানসভা এলাকায় এই ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল ও ধিক্কার সভার আয়োজন করে চাঁচল ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। সভা থেকে ফের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ান মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও স্থানীয় বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি।

তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কের জেরে বলরামপুর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মহম্মদ জলিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে মালতিপুর লাইব্রেরি মাঠ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে মৃতের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটেন বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। মিছিলটি ব্লক দপ্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় ধিক্কার সভা।

সভায় মৃত জলিলের কবরের মাটি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীরা মাথায় দিয়ে আন্দোলনের শপথ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি তাঁর মাসিক সম্মানিক ভাতা থেকে মৃতের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেন।

এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। তিনি দাবি করেন, বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই আতঙ্কের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যদিও পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, "বিজেপি চক্রান্ত করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। শতাধিক মানুষ মারা গেছে। যে আগুন জ্বালাচ্ছে বিজেপি। এরপর মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর ছাল তুলে নেবে। বিজেপি নেতাকর্মীদের পুড়িয়ে মারবে সেই আগুনে।"

যদিও বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, নিজের পায়ের মাটি নড়বড়ে বলে অরজকতা সৃষ্টি করে নির্বাচনে জিততে চাইছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।


Share