Mahua Maitra

তদন্তে সহযোগিতার শর্তে মহুয়া মৈত্রকে স্বস্তি, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা হাই কোর্টের

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হয়।

মহুয়া মৈত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩০

তদন্তে সহযোগিতার শর্তে কলকাতা হাই কোর্টে স্বস্তি পেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় মঙ্গলবার এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয় আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, মহুয়া মৈত্র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পুলিশি পদক্ষেপ করা যাবে না।

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়ে জানিয়েছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ অগস্ট বিকেল তিনটেয় মহুয়াকে হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দিতে হবে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে তদন্তে সহযোগিতা না করলে সেই বিষয়টি রাজ্য সরকার হাই কোর্টকে জানাতে পারবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত জুন মাসে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে একটি মামলায় মহুয়া মৈত্রের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সেই সময় আদালত চত্বরে বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা জড়ো হন। অভিযোগ, তাঁদের কাছে ডিম ছিল। তবে সেদিন আদালতে হাজির হননি মহুয়া। পরে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তায় বিজেপির মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে মহুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী আদালতে জানান, ডিম হামলার ঘটনার পাল্টা অভিযোগে পুলিশ তাঁর মক্কেলকে তলব করেছে। তবে লোকসভার বাদল অধিবেশন চলায় তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান।

অন্য দিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, এর আগে চারটি নোটিশ পাঠানো হলেও মহুয়া মৈত্র তদন্তে হাজির হননি। তিনি দাবি করেন, একটি নোটিশ যে ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল সেটিকে নির্মীয়মাণ ভবন বলা হলেও, সেই নোটিশ মহুয়া গ্রহণ করেছিলেন। শুনানির শেষে হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়া মৈত্রকে তদন্তে হাজিরা দিতে হবে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে। তবে তদন্তে অসহযোগিতা করলে সেই বিষয়টি আদালতকে জানাতে হবে রাজ্যকে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১ অক্টোবর।

গত জুন মাসে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে একটি মামলার শুনানিতে মহুয়া মৈত্রের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সেই খবর পেয়ে আদালত চত্বরে জড়ো হন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁরা সঙ্গে ডিমও নিয়ে এসেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেদিন আদালতে উপস্থিত হননি মহুয়া। পরে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বিজেপির মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মহুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। সোমবার হাই কোর্টে তাঁর আইনজীবী জানান, ডিম ছোড়ার ঘটনার পাল্টা অভিযোগের তদন্তে পুলিশ মহুয়াকে তলব করেছে। তিনি আবেদন করেন, সাংসদকে যেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে আদালত নির্দেশ দেয়, তদন্তের স্বার্থে থানায় হাজিরা দিতে হলে সেই সময় মহুয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁর দিকে যাতে কোনও ভাবে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা না ঘটে, তা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।

মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, এর আগে মহুয়া মৈত্রকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। তাঁর দাবি, নোটিশ গ্রহণ করার পরও মহুয়া জানান, যে ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছিল সেটি নির্মীয়মাণ ভবন। মোট চারটি নোটিশ জারি করা হলেও তিনি তদন্তে যোগ দেননি। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তে মহুয়া মৈত্রকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এ দিকে, নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় দায়ের হওয়া উস্কানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় মহুয়া মৈত্র অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।


Share