Mysterious Death

নিউটাউনের আবাসনে নেটপ্রভাবী তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী

নিউটাউনের একটি আবাসন থেকে তৃষা সাহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায়। সম্পর্কে টানা পড়ে নেই এমন ঘটনা কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে নিউটাউন থানার পুলিশ।

নেটপ্রবাহী তৃষা সাহা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউটাউন
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪০

নিউটাউনের একটি আবাসনে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে পুলিশ ওই আবাসন থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন। মৃতার নাম তৃষা সাহা (২৫)। একই ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকেও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর নাম সৌভিক রায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তৃষা সাহার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে। তাঁর লিভ- সঙ্গী সৌভিক রায় নৈহাটির বাসিন্দা। প্রায় চার মাস আগে তাঁরা দুজন নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকার একটি আবাসনে ভাড়া থাকছিলেন। তৃষা সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না তদন্তকারীরা। তৃষার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। অন্য দিকে, সৌভিকের হাতের শিরা কাটা ছিল। কীভাবে তিনি আহত হলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃষাকে মারধরের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, অথবা তার পর সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেই সমস্ত সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, রক্তাক্ত অবস্থায় সৌভিক হয়তো তৃষার ঝুলন্ত দেহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই মৃতার পায়ে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই যুগলকে নিয়ে আগে কখনও কোনও অশান্তির খবর তাঁদের কানে আসেনি। প্রতিবেশীদের কথায়, দু'জনের ব্যবহারই খুব ভালো ছিল। তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাটিও কখনও শোনা যায়নি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তৃষার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করছে নিউটাউন থানার পুলিশ।


Share