Misterious Death

বন্ধুর ফোনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর সীমান্তের কাছে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিপুল দাস ও উত্তম সরকার নামে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও এক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৯

বন্ধুর একটি ফোন কলই কেড়ে নিল প্রাণ! নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে এক যুবকের রহস্যমৃত্যু। বন্ধুর ফোন পেয়ে যুবকটি বাড়ি থেকে বেরোয়। এরপর তিনি চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার সকালে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় পুলিশ তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। মৃতের নাম অরূপ কর্মকার (৩৬)। তিনি কৃষ্ণগঞ্জ থানার শাকদহ গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ কর্মসূত্রে কেরালায় থাকতেন। রথযাত্রার আগে, বুধবার তিনি বাড়ি ফেরেন। সেখানে কাজ করে উপার্জিত টাকা সঙ্গে এনেছিলেন। পাশাপাশি একটি নতুন স্মার্টফোনও তিনি কিনেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাজারে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরে খেতে বসেছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে এক বন্ধুর ফোন আসে। তড়িঘড়ি অরূপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এরপর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে স্থানীয় একটি শ্মশানে বসে তিনি মদ্যপান করেন। পরে অন্যরা বাড়ি ফিরে এলেও অরূপ আর ফেরেননি। দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

সোমবার সকালে স্বর্ণখালি-শ্যামনগর গ্রামের একটি মাঠে একটি পরিত্যক্ত বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। তাতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার ভিতর থেকে অরূপের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিপুল দাস ও উত্তম সরকার নামে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও এক সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অরূপের কাছে থাকা টাকা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। তার জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রেখেছে পুলিশ।


Share