Molestation

যাঁর দায়িত্ব নিরাপত্তা, তাঁর বিরুদ্ধেই শ্লীলতাহানির অভিযোগ, কসবার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুলিশ

বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে লালসার শিকার হয় তরুণী। আতঙ্কের কারণে থানায় সরাসরি না গিয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৪

কলকাতা পুলিশের এক অফিসারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী এক তরুণী পরিচারিকা। তিনি কসবা থানা এলাকার ওই পুলিশ অফিসারের বাড়িতে কাজ করতেন। নির্যাতিতার দাবি, কাজের সূত্রেই অভিযুক্ত অফিসারের কুনজরে পড়েন তিনি। সুযোগ পেয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়।

অভিযোগকারিণী সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। একটি আয়া সেন্টারের হয়ে কাজ করেন তিনি। তার মাধ্যমেই কসবার ওই বাড়িতে রান্না ও ঘরের কাজের দায়িত্ব পান। সেখানেই তিনি নিয়মিত কাজ করতে যেতেন বলেই জানিয়েছেন। তরুণীর অভিযোগ, ঘটনার দিন বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে ছিলেন। তিনি একাই বাড়িতে ছিলেন। সেই সুযোগেই অভিযুক্ত অফিসার পিছন থেকে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। তারপর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

তরুণীর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত অফিসার উল্টে তাঁকে ভয় দেখান। 'দেখে নেবো' বলে হুমকি দেন। অভিযোগ, তাঁকে ফাঁসাতে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এমনকি জোর করে সাদা কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয়— তিনি আর কোনও দিন চুরি করবেন না। পরবর্তীতে অভিযুক্ত অফিসারের পরিবারের তরফ থেকেও ফোন করে চুরির অভিযোগ আনা হয় বলে দাবি নির্যাতিতার।

ঘটনার পর থেকেই ওই তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে তিনি মুখ না খোলেন। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ই-মেইলের মাধ্যমে কসবা থানায় সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের অন্দরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কসবা থানা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে! প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন।


Share