Murder Case

বিধাননগর কমিশনারেটে হত্যা মামলার নথি নেই, এলেন না তদন্তকারী অফিসার, ইকোপার্ক কাণ্ডে জামিন পেয়ে বাড়ি চলে গেলেন প্রশান্ত বর্মণ

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এক আধিকারিকের কথায়, এমন অপরাধী অন্য জায়গায় গ্রেফতার হতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে অন্য অপরাধের বা মূল মামলার তদন্তকারীরা ‘শোন অ্যারেস্ট’ করবেন। আদালতে হেফাজতে চাওয়ার আবেদন করবেন।

প্রশান্ত বর্মণের জামিন মঞ্জুর করল আদালত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১১:১৮

সল্টলেকের স্বর্ণব‍্যবসায়ী স্বপন কামিল‍্যার খুনের ঘটনার নথি আদালতে পৌঁছোল না। আদালতে ওই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক (আইও) হাজির হলেন না। ফলে পুলিশের হাতে ধরা পড়েও জামিন পেয়ে ঢ‍্যাং ঢ‍্যাং করতে বাড়ি চলে গেলেন ‘কীর্তিমান’ অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। এক হাজার টাকার ব‍্যক্তিগত বন্ডে বাসাসত আদালতের বিচারক প্রশান্তকে জামিন দিলেন।

অভিযুক্ত প্রশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ২৮১, ১২৫বি এবং মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪, ১৮৫ ধারায় এফআইআর রুজু হয়। গাড়ি দিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মেরেছিলেন বলে ওই মামলা রুজু করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, প্রশান্ত বর্মণকে যখন আদালতে হাজির করানো হয় তখন বিচারক মামলা সংক্রান্ত নথি চান। সন্ধ‍্যা গড়িয়ে গেলেও ম‍্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নথি না পৌঁছোনয় শেষমেশ তাঁকে আদালত জামিন দিয়ে দেয়।

এই নিয়ে সরকারি আইনজীবীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুই বলতে চাননি। খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্তের আইনজীবী বলেন, যে মামলায় তাঁর মক্কেলকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল, তা ছিল জামিনযোগ‍্য অপরাধ। বিধাননগর আদালত বা অন‍্য কোথাও থেকে অন‍্য মামলার নথি আদালতের কাছে পৌঁছোয়নি। বিচারক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে অন‍্য মামলায় তাঁর মক্কেলকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়নি বলেও প্রশান্তের আইনজীবী দাবি করেছেন।

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এক আধিকারিকের কথায়, এমন অপরাধী অন্য জায়গায় গ্রেফতার হতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে অন্য অপরাধের বা মূল মামলার তদন্তকারীরা ‘শোন অ্যারেস্ট’ করবেন। আদালতে হেফাজতে চাওয়ার আবেদন করবেন। বিধাননগরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল। আবার দুর্ঘটনাটিও সেখানে ঘটেছে। তার পরেও সমন্বয় হয়নি। এই বিষয়টি ‘অদ্ভুত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি। 

গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে তিনি তা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। ওই অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ। দীর্ঘ দিন ধরে প্রশান্ত ফেরার বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানিয়দের দাবি, এর মাঝে বেশ কয়েক বার নিউ টাউনের বাড়িতে প্রশান্তকে দেখা গিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি তাঁকে পাওয়া যায়নি। এই দুর্ঘটনার পর, তাঁকে হাতেনাতে পুলিশ আটক করেছে।

তবে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাবশালী বিডিও ক্ষেত্রে মামলার নথি আদালতে না পৌঁছোনোয় সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার পালাবদলের পরেও প্রশাসনের একাংশের মধ‍্যে তৃণমূলের প্রভাব রয়ে গিয়েছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। তাঁরা এটাকে ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছে।


Share