Mid-Day-Meal

মার্চের পর আসেনি পিএম পোষণের টাকা, ধার করে চলছে স্কুলের রান্নাঘর! খাবার পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কায় উদ্বেগ

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। শুধু হাওড়াই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলেও পিএম পোষণ প্রকল্পের বরাদ্দ ও পরিষেবা ঘিরে একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ সামনে আসছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৮:২২

মিড-ডে মিলের বরাদ্দ দীর্ঘদিন না আসায় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে হাওড়া জেলার একাধিক স্কুল। মার্চ মাসের পর থেকে পিএম পোষণ প্রকল্পের টাকা না মেলায় পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় দোকান থেকে ধার করছেন শিক্ষকরা। তবে ধার ক্রমশ বাড়তে থাকায় অনেকেই এখন দোকানিদের সামনেও যেতে অস্বস্তিতে পড়ছেন।

জানা গিয়েছে, হাওড়ার একটি ব্লকের একাধিক স্কুলে গত চার মাস ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। তবুও শিশুদের খাবার বন্ধ না করে ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করে চলেছেন শিক্ষকরা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। শুধু হাওড়াই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলেও পিএম পোষণ প্রকল্পের বরাদ্দ ও পরিষেবা ঘিরে একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ সামনে আসছে।

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, চলতি বছরের মে মাসেই পিএম পোষণ প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এক হাজার ৮০০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব তৈরি করে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। জুনের শুরুতেই সেই অর্থ ছাড়ের আবেদনও জানানো হয়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে ওই খাতে এক টাকাও মেলেনি বলে দাবি রাজ্যের। এর জেরে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে হাজার হাজার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুল। ইতিমধ্যেই জমা অর্থের ভাঁড়ারও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। ফলে দ্রুত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না এলে বহু স্কুলে মিড-ডে মিল পরিষেবা ব্যাহত বা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও বিকাশ ভবন থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই মিড-ডে মিল প্রকল্প বন্ধ রাখা যাবে না। একদিনের জন্যও ছাত্রছাত্রীদের খাবার পরিষেবা ব্যাহত করা চলবে না। দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের বরাদ্দ ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্যের হাতে সেই অর্থ পৌঁছোলেই বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড-ডে মিল প্রকল্পের ক্ষেত্রে অধিকাংশ স্কুলকে আগাম তিন থেকে চার মাসের খরচের একটি অংশ দেওয়া হয়। সেই অর্থ ব্যবহার করেই স্কুলগুলি প্রাথমিকভাবে প্রকল্প চালিয়ে যায়। পরে সরকারি বরাদ্দ হাতে এলে সেই খরচ সমন্বয় করা হয়। তবে সব স্কুল সমপরিমাণ অগ্রিম পায় না। ফলে যেসব স্কুলে কম অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তাদের তহবিলে এখন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।


Share