Abhishek Banarjee

আমতলায় অভিষেকের দলীয় কার্যালয় ভাঙা নিয়ে স্থিতাবস্থা বহাল, ৬ অগস্ট ফের শুনানি হাই কোর্টে

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, আগামী ৬ অগস্ট পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা বহাল থাকবে। ওই দিন দুপুর দু'টোয় মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:০৫

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয় ভাঙাকে কেন্দ্র করে চলা মামলায় আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, আগামী ৬ অগস্ট পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা বহাল থাকবে। ওই দিন দুপুর দু'টোয় মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এর আগে, গত ১৯ জুলাই রবিবার ছুটির দিনেও বিশেষ এজলাস বসিয়ে দলীয় কার্যালয় ভাঙার উপর স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট।

মঙ্গলবার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাই কোর্টের জারি করা স্থিতাবস্থার নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র আদালতে জানান, অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বিষয়টির দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। অন্য দিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত স্থিতাবস্থার নির্দেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। পাশাপাশি, দলীয় কার্যালয় ভাঙার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও নতুন করে আবেদন জানান আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।

রাজ্যের দাবি, মামলায় যে ৫০৯ ও ৫১২ নম্বর দাগের জমির উপর নির্মাণ ভাঙার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে কোনও ভাঙচুরের কাজই হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য, ভাঙার কাজ হয়েছে ৫০৭ নম্বর দাগের জমিতে। তাই আদালতের জারি করা আগের স্থিতাবস্থার নির্দেশ প্রত্যাহার করা উচিত। এর পাল্টা মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী কিশোর জানান, জমির দাগ নম্বর নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আদালতে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করা হবে। তিনি বলেন, “আমার মক্কেল (অভিষেক) জমির মালিক। ভাঙার আগে ওই সংস্থাকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগে কী ছিল, কোন নথির ভিত্তিতে বেআইনি নির্মাণ বলা হয়েছে, সেই সব তথ্যও দেওয়া হয়নি। কোনও বক্তব্যের সুযোগ না-দিয়েই ভাঙা হয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “যদি বেআইনি নির্মাণ হয়েও থাকে, তবে প্রথমে জমির মালিককেই ভাঙার জন্য সময় দেওয়া উচিত। তিনি না-ভাঙলে তখন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে সেটিও হয়নি।”

দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, এই মামলায় তিনটি পৃথক আবেদন জমা পড়েছে। বিষয়গুলি পরস্পর সম্পর্কিত হওয়ায় সেগুলির উপর একসঙ্গে শুনানি প্রয়োজন। সেই কারণে আপাতত মামলার শুনানি মুলতবি রাখা হচ্ছে। আগামী ৬ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তৃণমূল আমলেই অভিযোগ উঠেছিল, আমতলার ওই পাঁচতলা ভবনটি বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ জুলাই ভবনের একাংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়। আগের রাতে দফতরে থাকা সমস্ত আসবাব ও নথিপত্র সরিয়ে ফেলা হয়। পরদিন, ১৯ জুলাই দুপুরের পর ফের শুরু হয় ভাঙার কাজ। বুলডোজারের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় এয়ার কম্প্রেসর, ভাইব্রেটর-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র। হাতুড়ি দিয়েও জানলা ও দেওয়ালের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। নিজের দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানোর ঘটনায় সেদিনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, সমস্ত নিয়ম মেনে এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ীই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আমতলার ওই পাঁচতলা ভবন নিয়ে জনৈক সুশান্ত মণ্ডল লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মতিউর রহমান মণ্ডলের কাছ থেকে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে জমিটি কেনা হয়েছিল। সেই কারণে নিয়ম মেনে অভিযোগকারী সুশান্ত মণ্ডল, জমির প্রাক্তন মালিক মতিউর রহমান মণ্ডল এবং সংস্থার ডিরেক্টর তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানো হয়। ৩০ জুন জারি হওয়া প্রথম নোটিশে তাঁদের ১৫ জুলাই দুপুর দু'টোর মধ্যে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিশ পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসনের দাবি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেউই ওই শুনানিতে হাজির হননি। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, তাঁর দলের প্রতিনিধিরা নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।


Share