NEET Paper Leak

সিজেপির নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নয়, নাবালকদের মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

গত সোমবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে দফায় দফায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী। বেঙ্গালুরু, বিহার এমনকী কলকাতাতেও আন্দোলন হয়েছে। হিংসার ঘটনা ঘটেছে। দিল্লিতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বিহারে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। কলকাতায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের ডাকা আন্দোলনে ধর্মতলায় অশান্তি হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৩

সিজেপির নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনের হিংসার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা করা যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লি এবং বাকি রাজ্যের হিংসার ঘটনায় হেফাজতে থাকা নাবালকদের  মুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তবে, হিংসার ঘটনার ধৃতদের বিরুদ্ধে যদি আগে কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে বলে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে।

গত সোমবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে দফায় দফায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী। বেঙ্গালুরু, বিহার এমনকী কলকাতাতেও আন্দোলন হয়েছে। হিংসার ঘটনা ঘটেছে। দিল্লিতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বিহারে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। কলকাতায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের ডাকা আন্দোলনে ধর্মতলায় অশান্তি হয়েছে।

এই সমস্ত ঘটনা নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলার শুনানি হয়েছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপরে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগগুলির তদন্ত নিরপেক্ষ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। হিংসা ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এই নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

তবে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে তাদের বক্তব্য নথিভুক্ত করার সুযোগ দিয়েছে। একইসঙ্গে, যেখানে যেখানে এই হিংসার ঘটনা ঘটেছে, সেই রাজ্যগুলিকেও তাদের বক্তব্য রেকর্ডে পেশ করার অনুমতি দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনের রেকর্ডিং, ওয়্যারলেস যোগাযোগ এবং অন্যান্য নথি সংরক্ষণ সরকারকে করতে হবে। এ ছাড়া, আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে পুলিশের সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না বলেও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। 

মামলাকারীদের দাবি, আন্দোলনের সময় ‘পেলেট গান’ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে এক ছাত্রের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনী রাবার বুলেট, বৈদ্যুতিক ব্যাটন এবং পেরেগ বসানো লাঠি ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সময় সাধারণ পোশাকে পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। 

অন্য দিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য, অপরাধীরা আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে পুলিশকর্মীদের জখম করেছে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, গণতন্ত্রে এমন আন্দোলন হবেই। ঘটনায় কারোর উস্কানি ছিল কি না বা এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এই সংক্রান্ত পুরোনো শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমস্ত সওয়াল জবাব শোনার পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ সরকার করতে পারবে না। আন্দোলনের সময় ধৃতদের মুক্তি দিতে হবে। ধৃত নাবালকেদের মুক্তি দিতে হবে। কোনও ধৃতের যদি অপরাধমূলক অতীত থেকে থাকে তাঁদের বিরুদ্ধে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। 

কলকাতায় অশান্তির ঘটনা এখনও পর্যন্ত ১৬ জন ‘শুক্রবারি’-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই ঘটনায় ধৃতেরা সিজেপির কেউ নয় বলে কলকাতা পুলিশকে তাদের সদস্যরা জানিয়েছে। সেদিনের আন্দোলন সিজেপি করেনি বলে আগেই তারা জানিয়েছিল। সিপিএমের ছাত্র সংগঠনগুলি সেদিনের মিছিল করেছিল। তাই এই রাজ্যের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা আদৌ কার্যকর হবে কি না তা স্পষ্ট নয়।


Share