NDA

এনডিএ বৈঠকে মোদী-শাহদের সারিতেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার! প্রথম সারির আসন ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আসনবিন্যাস স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দিল্লির শাসকজোটে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং তাঁর দলের গুরুত্ব আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।

এনডিএ-র বৈঠকে প্রথম সারিতে বসেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, একই সারিতে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নড্ডারাও।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০১:১৮

এনডিএ-র বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী নেত্রী তথা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-র মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁকে বসানো হয় বৈঠকের একেবারে প্রথম সারিতে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ শাসকজোটের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আসনবিন্যাস স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দিল্লির শাসকজোটে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং তাঁর দলের গুরুত্ব আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক। বৈঠকে প্রথম সারিতে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা-সহ শাসকজোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গেই একই সারিতে বসানো হয় তৃণমূলের বিদ্রোহী নেত্রী তথা এনসিপিআই-র মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডানদিকে পঞ্চম আসনে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গত সপ্তাহ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে আসছে বিরোধীরা। সোমবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁস রোধে একটি ‘কঠোর’ বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের কারণে সেই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই আবহে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। একই সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা ফের সংসদে পেশ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্র। ফলে এই বৈঠক এবং সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ এনসিপিআই প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার রাতেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে জানা গিয়েছিল, মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত অন্য কর্মসূচির কারণে তাঁর দিল্লি সফর বাতিল হয়। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বৈঠকের বদলে আগের রাতেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেরে নেন সুদীপ।

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্রোহী নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁরা এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানাবেন। সেই অবস্থানকে আরও জোরালো করে সম্প্রতি দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দলের নেতা সুদীপ।

গত ১৯ জুলাই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকের পর দলের অবস্থান ফের স্পষ্ট করেন সুদীপ। তিনি জানান, সংসদে এনডিএ-র পক্ষেই সমর্থন জারি রাখবেন তাঁদের সাংসদেরা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ না-হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপিআই। সেই সব বিষয় রাজ্য সরকারের মাধ্যমে, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই তুলে ধরা হবে। এই আবহে সোমবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুদীপের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র ওই বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়ও। মঙ্গলবারের এই বৈঠকে তাঁদের অংশগ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।

মমতা-শিবিরের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “এনসিপিআই-এর সাংসদেরা তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে জিতেছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে, বিজেপির বিরোধিতা করে জিতেছেন। তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করে দল ছেড়েছেন। বিজেপির বিরোধিতা করে জেতা সাংসদেরা এখন বিজেপির জোটে যোগ দিচ্ছেন। এমন বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে?”


Share