CJP Protest

ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না, আদালত অবমাননার অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের দাবি, গোটা দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নির্দিষ্ট এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৬

গত ১০ অক্টোবর ককরোচ পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্রকে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দিল্লি পুলিশ। ২৪ ঘন্টার জন‍্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে হয়েছিল। মেট্রো স্টেশন এবং ট্রেন বাতিল করা হয়। তবে তা নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা হয়।আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠা। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন।

আদালতে স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের দাবি, ২০ জুলাই নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই দিল্লি পুলিশ এই সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছিল। গত ১০ অক্টোবর প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচেরা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। তবে গত ৯ অক্টোবরের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে লঙ্ঘন করেনি। ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অশান্তি এড়াতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে আদালতে হলফনামা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১০টা পর্যন্ত কেবলমাত্র রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সব জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। ওই সময় সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হলেও ওয়াইফাই এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল।

গত ১০ অক্টোবর এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তর ‘নাটক’ করার কথা ছিল ককরোচ পার্টির। ওই অভিযানের আগে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে মেট্রো এবং ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না-করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য ছিল, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকলে মানুষের ভোগান্তি হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। তাই যাত্রীদের প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেই সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না।

কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। ফ্লপ হয়েছে ককরোচের ‘নাটক’। দিল্লিগামী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। তাতে কেন্দ্রকে জবাব দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সলিসিটর জেনারেল জানান, হলফনামা তৈরিই রয়েছে। তবে সেটি আর একটু গুছিয়ে নিতে চান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট সেইমতো তাঁকে অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করে। এ বার সেই হলফনামা দিয়ে বিধিনিষেধের কারণ ব্যাখ্যা করলেন স্বরাষ্ট্রসচিব।


Share