Body Recovery

বন্ধ ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীর দেহ উদ্ধার, চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য, নিখোঁজ স্বামী

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ তাঁর স্বামী মদন মোহন বারিক। তরুণীর মৃত্যুর জন্য স্বামীকে দায়ী করেছে পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৮

পঞ্চমীর সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে বন্ধ ঘর থেকে এক তরুণীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতার নাম সানন্দা বারিক (৩৮)। ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছে না তাঁর স্বামী মদন মোহন বারিকের। তরুণীর মৃত্যুর পিছনে স্বামীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৩ বছর আগে পরিবারের অমতে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন সানন্দা। তাঁর স্বামী মদন মোহন বারিক ওড়িশার বালাসোরের বাসিন্দা। সানন্দার বাবা মনোজ ভদ্র সিআরপিএফে কর্মরত ছিলেন। প্রথমে তিনি এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। এমনকী, সে সময় পুলিশের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পরে অবশ্য পারিবারিক বিবাদের মীমাংসা হলে তিন মাস পর অনুষ্ঠান করে সামাজিকভাবে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়।

প্রায় পাঁচ বছর আগে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন সানন্দা ও মদন মোহন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। মদন মোহন একটি নামী শাড়ির সংস্থার বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে কলকাতার বড়বাজারে যেতে হত। মাঝেমধ্যে স্বামীর সঙ্গে সানন্দাও কলকাতায় যেতেন।

পরিবার সূত্রে খবর, ঘটনার আগের দিনও স্বামী-স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সানন্দার বাবা। কিন্তু পরের দিন সকাল থেকে তাঁদের আর দেখা যায়নি। দম্পতির দুই সন্তান ছিল সানন্দার মায়ের কাছে।

এদিকে, সকালে ঘর তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বাড়ির মালিক। বিষয়টি জানানো হয় সানন্দার পরিবারকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও দু’জনের মোবাইল ফোনই বন্ধ ছিল। পরে ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই মেঝেতে সানন্দার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার করে। ঘরের মেঝেতে চাপ চাপ রক্তের দাগ ছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তরুণীর মুখও চেনার উপায় ছিল না বলে জানা গিয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে সানন্দার স্বামী মদন মোহন বারিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও অশান্তি চলছিল বলে তাঁরা জানতেন না। তবে মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাইকে দায়ী করেছেন তাঁরা। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর সন্ধ্যায় এমন ঘটনায় প্রতাপপুর এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।


Share