Accident

সেপটিক ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসের বলি একই পরিবারের চারজন, মর্মান্তিক ঘটনা মোহনপুরে

পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের আঁতলা গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্কে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের জেরে মৃত্যু হল চারজনের। ট্যাঙ্কে পড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর দিদি, ভাগ্নে-সহ আরও কয়েকজন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১১

দিদির বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্কের কাজ করতে গিয়ে বিপত্তি। ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান ভাই। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে ট্যাঙ্কে নামেন দিদি, তাঁর ছেলে এবং আরও কয়েকজন। জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের আঁতলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আঁতলা গ্রামে বোনের বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ করছিলেন বদির মল্লিক। কাজ চলাকালীন কোনওভাবে গভীর ট্যাঙ্কের ভিতরে তিনি পড়ে যান। দীর্ঘদিন ট্যাঙ্কটি ঢাকা থাকায় তার ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ট্যাঙ্কে পড়ে যাওয়ার পরই সংজ্ঞা হারান বদির।

ভাইকে বিপদের মধ্যে পড়তে দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে ট্যাঙ্কে নামেন তাঁর দিদি সারজিনা বিবি। কিন্তু তিনিও ভিতরে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন সারজিনার ছেলে শেখ রবিউল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে ওঠার আগেই তিনিও ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবিউলও।

এরপর তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন আত্মীয়-প্রতিবেশী শেখ সাহেব। তিনিও ট্যাঙ্কের ভিতরে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেখ আবুকালাম নামে আরও এক স্থানীয় ব্যক্তি উদ্ধারকাজে নামেন। তিনিও ট্যাঙ্ক থেকে আর উপরে উঠে আসতে পারেননি।

পরপর একাধিক ব্যক্তির ট্যাঙ্কে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মুখে কাপড় বেঁধে ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। গুরুতর অসুস্থ শেখ আবুকালাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস থেকেই এই বিপত্তি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।


Share