Special Intensive Revision

‘বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সন্দেহ করবেন না,’ মন্তব্য দেশের প্রধান বিচারপতির, বিচারকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে তৃণমূলের মামলা শুনল না সুপ্রিম কোর্ট

শুক্রবার সকালে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কেন নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা নিয়ে আপত্তি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচীর বেঞ্চ মামলাটি মৌলিক ভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

তৃণমূলের অভিযোগ শুনল না সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৫

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিস্পত্তি করবে কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা। তবে সিস্টেমে বসে তা কীভাবে তাঁরা করবেন তা নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের দাবি, কেন তাঁদের নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তা সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই মমলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই জটিলতার শেষ হওয়া উচিত। তাই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর সন্দেহ করবেন না।

শুক্রবার সকালে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কেন নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা নিয়ে আপত্তি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল‍্য বাগচীর বেঞ্চ মামলাটি মৌলিক ভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। সেখানে আইজীবী কপিল সিব্বল জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এসআইআরের কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের নিযুক্ত করেছে। কিন্তু তার পরেও তাঁরা কীভাবে কাজ করবেন তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এটা সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশের পরিপন্থী। তাঁর আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিরই প্রক্রিয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করার কথা।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই করে নিস্পত্তির কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থাপিত আপত্তি শুনতে অস্বীকার করেছে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বক্তব্য, রূপরেখা বলতে প্রশাসনিক এবং কাজ করার জন‍্য যাবতীয় ব্যবস্থার কথা বোঝানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “এ ভাবে সুপ্রিম কোর্টে এলে তো মুসকিল। ছোটখাটো অজুহাতে গোটা প্রক্রিয়াটিকে আটকে দেবেন না। এর একটা শেষ হওয়া দরকার।” 

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ৬০ লক্ষ তথ‍্যগত অসঙ্গতি এবং আনম‍্যাপড ভোটারদের নথি ‍যাচাই করে নিস্পত্তি করবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলে, কাজ দ্রুত শেষ করতে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের আনা যেতে পারে। এর পরেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে দফায় দফার বৈঠক হয়। এর পরেই বিচারক নিয়োগের পরে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেছে নির্বাচন কমিশন। তা নিয়েই আপত্তি জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। 

এ দিন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “এখন আপনারা আমাদের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে সন্দেহ করবেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁরাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।” এসআইআর নিয়ে রাজ‍্যে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সরকার তা নিয়ে গত শুনানিতে হতাশা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সংবিধানের ১৪২ ধরা প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত। শুক্রবার তিনি এ-ও বলেন, “আমরা আপনাদের কল্পনারও বাইরে গিয়ে নির্দেশ দিয়েছি।”

শুক্রবার শুনানিতে আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রশিক্ষণে বিচারকদের ডোমিসাইল শংসাপত্র গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে আর কোনটা হবে না। কমিশন সেই নির্দেশ মানবে। নির্দেশে যদি ওই নথি অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা বিবেচনা করা হবে। তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আমাদের নির্দেশ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তা অগ্রাহ্য করা যাবে না।”

আইনজীবী কপিল সিব্বল এ-ও দাবি করেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যেন কমিশন প্রভাবিত না করে। তাঁরা যেন স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তৃনমূলের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকেরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। আলাদা করে কোনও স্পষ্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই। বলেন তিনি, “আমাদের নির্দেশ পরিষ্কার।”


Share