Soil Smuggling

নবদ্বীপের ফরেস্টডাঙায় বেআইনি মাটি কাটার অভিযোগে পুলিশের অভিযান, আটক জেসিবি ও তিন ট্রাক্টর

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে কৃষিজমি সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় চাষের জমি ও গ্রামীণ রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। যদিও মাটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের দাবি, বিএলআরও-র অনুমতি ও সরকারি রয়্যালটি দিয়েই কাজ করা হয়েছে।

বেআইনি মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নবদ্বীপ
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৯:৩২

নদিয়ার নবদ্বীপ ব্লকের ফরেস্টডাঙা এলাকায় বেআইনি মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষিজমি সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটার ফলে চাষের জমি ও গ্রামীণ রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার পুলিশ অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি জেসিবি মেশিন এবং তিনটি ট্রাক্টর উদ্ধার হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার কাজে যুক্ত শ্রমিক ও চালকেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া যন্ত্রপাতি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে ফরেস্টডাঙা এলাকার কৃষিজমির পাশ থেকে বালি ও মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। তখনই ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়।

স্থানীয় কৃষক রমেশ মাহাতোর অভিযোগ, প্রতিদিন ভোর ছয়-সাতটা থেকে বিকেল পর্যন্ত আট থেকে দশটি ট্রাক্টরে করে মাটি সরানো হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিজমির পাড় ভেঙে যাচ্ছে। জল জমে ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। অবিলম্বে তিনি এই কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক শিবশঙ্কর দেবনাথ। তাঁর দাবি, যেভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামের রাস্তার অবস্থাও ক্রমশ বেহাল হয়ে পড়ছে।

অন্য দিকে, মাটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া প্রদীপ ঘোষ ও প্রতাপ ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ভূমি ও ভূমি সংস্কার (বিএলআরও) দফতরের অনুমতি এবং সরকারি রয়্যালটি জমা দিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমিটি রানাঘাটের এক বাসিন্দার মালিকানাধীন। স্থানীয় আবদার বিশ্বাসের কাছ থেকে বৈধভাবে ওই জমির মাটি কেনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ২৩ জুন সরকারি রয়্যালটি জমা দেওয়া হয়েছিল। এর পর ২৫ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত চার দিনের জন্য বিএলআরও দফতর থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, অতীতে অন্য রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের এই ব্যবসায় যুক্ত থাকতে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তবুও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সবকিছু বৈধভাবেই হয়ে থাকে, তাহলে প্রায় এক মাস ধরে মাটি কাটার অভিযোগ উঠছে কেন? পুলিশ পৌঁছোতেই শ্রমিক ও চালকেরা কেন পালিয়ে গেলেন? উদ্ধার হওয়া জেসিবি ও ট্রাক্টর পাশের পাটক্ষেতে কেন রাখা হয়েছিল? যদিও এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া একটি জেসিবি ও তিনটি ট্রাক্টর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র, রয়্যালটির নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ দিকে, ফরেস্টডাঙার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় দাবি করেছেন, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাক্টরের দাপাদাপিতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ভারী যান চলাচলের ফলে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাঁদের অভিযোগ, আগে এক পক্ষ, এখন অন্য পক্ষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেও সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। ভয় ও হুমকির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না বলেও দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, বর্তমানে মাটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছেন। অভিযোগ, শুক্রবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক স্থানীয় বুথ সভাপতিকেও ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। উদ্ধার হওয়া যন্ত্রপাতির নথিপত্র, অনুমতির বৈধতা এবং বাস্তবে কতদিন ধরে মাটি কাটার কাজ চলছিল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই ফরেস্টডাঙ্গার বাসিন্দারা এখন তাকিয়ে রয়েছেন।


Share