Supreme Court

মামলা তুলে নিন, নয়তো খারিজ করে দেব! ‘উন্নয়ন আটকানোর জেদ কেন?’ চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ‍্য সরকারকে ধমক সুপ্রিম কোর্টের

চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর কাজ থমকে অনেক দিন ধরেই। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণের কাজ আটকে রয়েছে। মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার অংশে কাজ অসম্পূর্ণ। অভিযোগ, ওই অংশে কাজের জন্য বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না-দেওয়ায় কাজ এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে ধমক সুপ্রিম কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০১:০৬

চিংড়িঘাটা মেট্রোরর সম্প্রসারণের কাজ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতির বক্তব্য, বারবার অজুহাত দেখিয়ে কেন উন্নয়ন আটকানোর জেদ দেখানো হচ্ছে। এর পরেই রাজ্য সরকারকে ধমক দিয়ে বলেন, আপনারা মামলা তুলে নিন। না হলে আমরা মামলাটি খারিজ করে দেব।

চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর কাজ থমকে অনেক দিন ধরেই। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণের কাজ আটকে রয়েছে। মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার অংশে কাজ অসম্পূর্ণ। সেই অংশটা ঠিক চিংড়িঘাটা মোড়ে। অভিযোগ, ওই অংশে কাজের জন্য বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না-দেওয়ায় কাজ এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

মামলা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক), ডেপুটি কমিশনার (ট্র্যাফিক)-কে ছাড়পত্র দেওয়ার জন‍্য নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মেট্রো ভবনে সব পক্ষকে বৈঠক করে সমস‍্যা মিটিয়ে নেওয়ার জন‍্য নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। স্থির হয়, উৎসবের মরশুম শেষ হলে পিলার বসানোর কাজ শুরু হবে। ন’মাসের মধ্যে তা শেষ হবে। কিন্তু মরশুম শেষ হলেও এনওসি না মেলায় হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ চায় আরভিএনএল।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ভারত উৎসবের দেশ। তাই উৎসব শেষ হওয়ার অপেক্ষা করলে কোনও প্রকল্পই এগোবে না। আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়ায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য। গত বছর ২৩ ডিসেম্বর হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্য ও ট্রাফিক পুলিশকে পরপর দু’টি সপ্তাহান্তের রাতের ট্রাফিক ব্লকের তারিখ চূড়ান্ত করতে হবে। কবে হবে তা করা হবে, তা ৬ জানুয়ারির মধ্যে আরভিএনএল এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষকে জানাবে রাজ্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চ জানায়, আদালতের প্রত্যাশা সব কর্তৃপক্ষ সমন্বয় রেখে কাজ করবে। যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের গতি সেই চিংড়িঘাটাতেই থমকে রয়েছে।

হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। এ দিন সেই মামলায় দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “জনসাধারণের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে। হাই কোর্টই সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করাবে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ গাফিলতি রয়েছে। কেন উন্নয়ন আটকানোর জন্য জেদ করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। এর পরেই রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কখনও বলছেন উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা চলছে, এখন বলছেন নির্বাচন চলছে। সুযোগ দিচ্ছি, মামলা তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব।”

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নত পরিকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অগ্রগতি যে আশা করে তা-ও স্পষ্ট করে রাজ‍্য সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট।


Share