Assembly Election

বিধানসভা নির্বাচনে বাড়ছে বহুতলে বুথের সংখ্যা, সবচেয়ে দুই ২৪ পরগনায়, পরেই রয়েছে কলকাতা

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি বহুতলে বুথে করা হতো। আসন্ন নির্বাচনে আরও ৫৭টি বুথ করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে মোট বহুতল বুথ হবে ৭৮টি। বহুতলে বুথের সংখ্যা মিলিয়ে মোট হল ৮০ হাজার ৭৩৮টি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৭

আগামী মার্চ মাসে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার কথা। তবে বর্তমানে রাজ‍্য ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চলছে। কমিশন সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনে বহুতলে বুথের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। তবে বাকি বুথের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে বলেই কমিশন সূত্রের দাবি।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি বহুতলে বুথে করা হতো। আসন্ন নির্বাচনে আরও ৫৭টি বুথ করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে মোট বহুতল বুথ হবে ৭৮টি। বহুতলে বুথের সংখ্যা মিলিয়ে মোট হল ৮০ হাজার ৭৩৮টি।

কমিশন সূত্রের খবর, বহুতলে বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সেখানে ২৫টি বহুতলে নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি হবে। এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় ১৬টি বহুতলে বুথ হবে। এ ছাড়াও, উত্তর কলকাতায় পাঁচটি, দক্ষিণ কলকাতায় একটি বহুতলে ভোটকেন্দ্র হবে। হুগলিতে তিনটি, হাওড়ায় চারটি এবং পূর্ব বর্ধমান তিনটি বহুতলে ভোট হচ্ছে। যে সব বহুতলে ৩০০ জনের বেশি ভোটার রয়েছে সেই সব বহুতলে ভোটকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলায় গত দু’দশকে উল্লেখযোগ‍্য ভাবে বহুতল আবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব বলছে, কলকাতায় মোট ভোটারের ৮-১০ শতাংশ আবাসনের বাসিন্দা। এই সব আবাসনের বাসিন্দারা ভোটের দিনে নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তাই বেশিরভাগই বুথমুখী হন না।

গত বছর কমিশন জানিয়েছিল, যে সমস্ত বহুতল আবাসনে ২৫০টি পরিবার বা ৫০০ জনের বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে ভোটকেন্দ্র করা যায় কি না তা নিয়ে ছ’টি জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু যে রিপোর্ট যায় তাতে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। কমিশন বলে, ঠিকঠাক সমীক্ষা করা হয়নি। রিপোর্টে সমীক্ষার অভাব রয়েছে। তাই পুনরায় জেলাশাসকদের বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৩১ ডিসেম্বর।

এই সংক্রান্ত সংকট মোচনে আসরে নামতে হয় ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীকে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালও। ওই বৈঠকে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি নিয়ে মোট আটজন জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাগজপত্র নিয়ে সিইও দফতরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।

কমিশন সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের বারবার বলা সত্ত্বেও রিপোর্ট না আসায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন কমিশনের কথা গ্রাহ্য করা হচ্ছে না তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এ ব‍্যাপারে ওই জেলা থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও বিরক্তি প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ ভারতী। কমিশনের তরফে তিনি তাঁদের নির্দেশ দেন, গত বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতেই হবে। যদি না হয় তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।


Share