Kolkata Municipal Corporation

পুরসভায় পেন ডাউন, সকাল থেকে আমিনুরের মুক্তির দাবিতে ইঞ্জিনিয়াদের বিক্ষোভ চলল, পুর প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন বিক্ষোভকারীরা

সোমবার সকালে বিভিন্ন বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারেরা পুরসভায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। পুরসভার করিডরে বসে প্রায় ৩০০ ইঞ্জিনিয়ার বিক্ষোভে শামিল হন।

পুরসভায় বিক্ষোভরত ইঞ্জিনিয়াররা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২১

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোর বিল্ডিং বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব হলেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। সোমবার সকালে বিভিন্ন বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারেরা পুরসভায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। পুরসভার করিডরে বসে প্রায় ৩০০ ইঞ্জিনিয়ার বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের দাবি, গ্রেফতার হওয়া সহকর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং কোনও ভাবেই তাঁকে সাসপেন্ড করা যাবে না।

বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজিকে অপসারণ করতে হবে। আমিনুরের জামিনের দাবিতেও তাঁরা সরব হন। এ দিন পেন ডাউন কর্মসূচি পালন করে কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান পুর ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকে। ফলে কোনও একটি ঘটনার দায় শুধুমাত্র এক জন আধিকারিকের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

এ বিষয় নিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডের সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু পুর প্রশাসক দেখা করার কিছু শর্ত বেঁধে দেয়। পুর প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বিক্ষোভরত ইঞ্জিনিয়াররা সেই পরামর্শ মেনে না নেওয়ার কারণে সন্ধ্যা অব্দি বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরপর ইঞ্জিনিয়ারের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল পুর প্রশাসকের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠক করে এসে ইঞ্জিনিয়াররা সাংবাদিকদের সামনে কোনোও প্রতিক্রিয়া দেননি। অন্য দিকে, পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডেও এ বিষয়ে কিছু জানাননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসে কলকাতা পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের তারাতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে ছিলেন আমিনুর শেখ। ঘটনার তদন্তে নেমে গোডাউন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিষয়ে তথ্য চেয়ে কলকাতা পুরসভাকে নোটিশ পাঠায় কলকাতা পুলিশ। পুরসভার তরফে দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারীদের হাতে আমিনুরের ভূমিকা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে।

তদন্তে জানা যায়, ওই নির্মাণের নকশা অনুমোদনের দায়িত্বের সঙ্গে আমিনুর যুক্ত ছিলেন। এরপরই তদন্তকারীরা তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। শুক্রবার গড়িয়ার বিধানপল্লিতে একটি আবাসনে নিজের ফ্ল্যাট থেকে আমিনুরকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে পেশ করা হলে তাঁর চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।


Share