Narendra Modi

ব্রিক্‌সের শেষ দিনে মোদীর ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি, সাত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক, নৈশভোজে বিজেপি-শাসিত ছয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। বৈঠকের পর মোদী জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আফ্রিকার উন্নয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ভারত কাজ করতে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১০

রবিবার দু’দিনের ব্রিক্‌স সম্মেলন শেষ হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা একে একে দেশে ফিরে গিয়েছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও। রবিবার মোট সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপিন্স ও মিশরের পাশাপাশি মোদীর বৈঠকের তালিকায় ছিল কাজ়াখস্তান, বুরুন্ডি, উগান্ডা এবং নাইজেরিয়া। বৈঠকগুলিতে মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসার সঙ্গে বৈঠকে বিরল খনিজ, পরিকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি নিয়ে মোদী বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। বৈঠকের পর মোদী জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আফ্রিকার উন্নয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ভারত কাজ করতে আগ্রহী।

সম্মেলনের শেষ দিনে একাধিক দেশের সঙ্গে মোদীর ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক সক্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আলোচনা করেছেন। মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতা এল-সিসির সঙ্গে বৈঠককে ‘অসাধারণ’ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। ভারত-মিশর সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেই প্রেক্ষাপটে মিশরের ভূমিকা নিয়েও দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে শুরু থেকেই মিশর মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন মোদী।

ব্রিক্‌স সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বিদেশি অতিথি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আমন্ত্রিতদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেই নৈশভোজে বিজেপি-শাসিত ছয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্করসিংহ ধামী এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে বিরোধী-শাসিত কোনও রাজ্য থেকেই দিল্লিতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি।


Share