KMC

বিশ্বকর্মা পুজোর পর রাস্তা সংস্কারে গতি বাড়াবে কলকাতা পুরসভা, পুজোর আগেই কাজ শেষের লক্ষ্য

বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকে রাস্তা মেরামতের কাজে গতি বাড়িয়ে মহালয়ার আগেই অধিকাংশ পিচ রাস্তার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পুরসভা।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৫০

টানা বৃষ্টিতে কলকাতার একাধিক রাস্তার পরিস্থিতি এখন বেহাল। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও জল জমে রাস্তার ক্ষতি আরও বেড়েছে। পুজোর আগে শহরের রাস্তা মেরামতের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। এ বার বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই সেই কাজে আরও গতি আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।

বঙ্গে পালাবদলের পর গত চার মাসে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ছবিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূলের পুরবোর্ডের একাধিক পদে থাকা ব্যক্তির পদত্যাগের পর বর্তমানে পুর পরিষেবার দায়িত্ব প্রশাসকের হাতে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাস্তা সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃষ্টি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে থাকার কারণে সব বরোতে একই সঙ্গে পিচের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তাগুলিতে ইতিমধ্যেই রাতের দিকে মেরামতের কাজ শুরু করেছে পুরসভার রোড ডিপার্টমেন্ট।

রাস্তা মেরামতের জন্য পিচ ও স্টোনচিপস মিশিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয় পামারবাজার এবং গোঁরাগাছার দু’টি প্ল্যান্ট থেকে। কিন্তু সেই সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে ১৬টি বরোতেই এখনও পুরোদমে পিচের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ভোটের আগে পানীয় জল ও নিকাশির বিভিন্ন লাইন বসানোর জন্য শহরের বহু রাস্তা কাটা হয়েছিল। সেই রাস্তার অনেকগুলি ঠিকমতো মেরামত না হওয়ায় বৃষ্টির পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পুরপ্রশাসনের লিখিত নির্দেশ না থাকায় আইনি জটিলতার কারণেও গত কয়েক মাসে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা সংস্কারের কাজ আটকে ছিল।

পুজোর আগে রাস্তা কাটার উপর সাধারণত যে ‘এমবার্গো’ জারি করা হয়, সেটিও এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, রাস্তা সংস্কারের পর ফের পানীয় জল, নিকাশি, সিইএসসি কিংবা জিও-র মতো সংস্থার কাজের জন্য রাস্তা কাটা হলে নতুন করে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এর পাশাপাশি ঠিকাদারদের একাংশের টেন্ডার বয়কট নিয়েও কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বকেয়া পাওনা না মেটায় কয়েক জন ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন বলে খবর। রাস্তা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়েও এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে বরো এক্সিকিউটিভদের দাবি, ‘মেরামতের তহবিল’ ব্যবহার করে বরোভিত্তিক অধিকাংশ পিচ রাস্তার সংস্কারের কাজ মহালয়ার আগেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে।


Share