Kolkata Municipal Corporation

অভিষেকের বেআইনি নির্মাণ নয়, বকেয়া কর নিয়ে সক্রিয় কলকাতা পুরসভা, পাঠানো হল নোটিস

একই দিনে হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ বিল্ডিংয়েও নোটিস লাগানো হয়। যদিও অভিযোগ, নোটিস সাঁটার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুরসভা।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ০২:৪০

শুধু বেআইনি নির্মাণ নয়, বকেয়া সম্পত্তি কর নিয়েও এবার সক্রিয় হল কলকাতা পুরসভা। সোমবার রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পরিবার এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামে একটি সংস্থার মালিকানাধীন ১৭টি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস সাঁটানো হয়েছিল। বুধবার ফের কালীঘাট রোডের একটি বাড়িতে গিয়ে কর বকেয়ার নোটিস দেন পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের আধিকারিকরা।

পুরসভা সূত্রে দাবি, ওই বাড়িটিও অভিষেকের পরিবারের মালিকানাধীন। একই দিনে হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ বিল্ডিংয়েও নোটিস লাগানো হয়। যদিও অভিযোগ, নোটিস সাঁটার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুরসভা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের নামে কলকাতায় কত সম্পত্তি রয়েছে, তা নিয়ে পুরসভা খোঁজখবর নিচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের এক সভায় তিনি অভিষেকের পাশাপাশি বেলেঘাটার রাজু নস্কর এবং কসবার বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র নামও উল্লেখ করেন। সূত্রের খবর, রাজু নস্করের দুটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য পুরসভার আদালতে মামলা হয়েছে এবং থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছিলেন, অভিষেক বা তাঁর পরিবারের বাড়িতে নোটিস সাঁটার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। বুধবার তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, , "যে তালিকা ঘুরছে, তা আপনারা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজ়ম করে দেখে নিন, আপনারা ভেরিফাই করে নিন। আমি পার্সোনাল বিষয়ে কথা বলতে পারব না। আমি কোনও ইজারা নিইনি। কেএমসি রুলসে কী আছে, সেটা জানানোর দরকার ছিল, তা জানিয়ে দিলাম।"

এ দিন সকালে তৃণমূলের তরফে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ছড়ানো একটি পুরসভার নোটিসকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতাদের কাল্পনিক সম্পত্তির সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, 'কার কতগুলি (বাড়ি) আছে, সেখানে কোনও নোটিস গিয়েছে কিংবা যায়নি এটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এই বিষয়টি যাঁকে কেন্দ্র করে তিনি অথবা তাঁর আইনজীবী বলতে পারবেন।...কার বাড়িতে কী নোটিস যাচ্ছে, এটা দলের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বাড়ি কার, এটার তদন্ত হোক। কারা লিস্ট রটাচ্ছে, তারও তদন্ত হোক। এটা আসল হলে আইন আইনের পথে চলবে।'

অন্যদিকে, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবান নন। আইন সকলের জন্য সমান। যদি বৈধ কাগজপত্র থাকে, অনুমতি নিয়ে সব নির্মাণ হয়ে থাকে, তা হলে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাঁদের তো সময় দেওয়া হচ্ছে। নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তো পাবেন। না হলে যা আইনি পদক্ষেপ, তাই করা হবে।' রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণ তিনি আরোও বলেন, 'আমরা তো এখনও যে সব বাড়িতে ব্যবসায়িক কাজ হচ্ছে, সেগুলো দেখছি। আবাসিক যে সব বহুতল বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে, সেগুলো আমরা পরে ধরব।'

মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে প্রশ্ন ওঠে, পুরসভা কোথায় নোটিস দিচ্ছে, তা তিনি জানতেন না কেন? জবাবে তিনি বলেন, “বিল্ডিং বিভাগ কাকে নোটিস দেবে, সেটা প্রশাসনিক বিষয়। এটি মেয়রের নীতিগত সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, বরো চেয়ারম্যানদেরও এ ধরনের নোটিস জারি করার ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।


Share