Narendra Modi

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলেই বিনিয়োগ আসবে, তৃণমূল জমানাকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ প্রধানমন্ত্রী মোদীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের তরুণ, কৃষক, মা-বোনেদের যথাসম্ভব সেবা করতে চাই। কিন্তু তৃণমূল সরকার এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে আপনাদের কাছে পৌঁছোতেই দেয় না।”

সিঙ্গুরের সভায় বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিঙ্গুর
  • শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:১২

রাজ‍্যে আইনশৃঙ্খলা নেই। তা ঠিক হলেই বিনিয়োগ আসবে। হুগলির সিঙ্গুরের জনসভা থেকে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পাশাপাশি তৃণমূল জমানা রাজ‍্যে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সিঙ্গুরের সভা থেকে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

রাজ্যে শিল্পন্নয়ন নিয়ে বারে বারে তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিজেপি। এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গলায় একই সুর শোনা গেল। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “এখানে কলেজে ধর্ষণ এবং হিংসায় লাগাম টানতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা দরকার। আপনার একটি ভোটই নিশ্চিত করবে এ রাজ্যে সন্দেশখালির মতো ঘটনা আর হবে না। আপনার ভোটই নিশ্চিত করবে যে, আগামী দিনে ফের কখনও হাজার হাজার শিক্ষক নিজেদের চাকরি হারাবেন না।” এর পরেই তিনি বলেন যে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। তিনি বলেন, “এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”

বিহার নির্বাচনে জেতার পরে ‘জঙ্গলরাজ’ প্রসঙ্গ টেনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছিলেন, বিহারে হয়েছে। এ বার পালা পশ্চিমবঙ্গের। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য, রবিবারের সিঙ্গুরের সভাতে তৃণমূলকে উৎখাত করার সংকল্প নিয়ে এসেছেন। তাঁরা সকলেই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের আসল পরিবর্তন চাই। সকলে এই মনোভাব নিয়েই আজ সভায় এসেছেন। সকলেই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছেন।” তিনি বিহারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজকে আরও এক বার আটকে দিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গও টিএমসি-র মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।”

তৃণমূল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে বলেও এ দিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের এবং দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলা করছে। এখানকার তরুণদের বিশেষ করে সতর্ক থাকতে হবে। তৃণমূল এখানে অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্নায় বসে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের এই কারণেই পছন্দ করে, কারণ তারা ওদের ভোটব্যাঙ্ক।” এমনকী, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে তৃণমূল যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারে বলেও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার গত ১১ বছর ধরে তৃণমূল সরকারকে বার বার চিঠি লিখছে। বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কাঁটাতার দিতে হবে। জমি দরকার। কিন্তু তৃণমূলের কোনও হেলদোল নেই। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো নথি বানিয়ে দিয়ে তাদের সাহায্য করে তৃণমূল। অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করতে হবে। যারা অতীতে বিভিন্ন ভুয়ো নথি বানিয়ে এ দেশের ভিড়ে মিশে গিয়েছে, তাঁদেরও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।”

আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প রাজ্যে চালু হয়নি। তার জন‍্য মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে একাধিক বার বিজেপি সরব হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। রবিবারের এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “দেশের ভোটারেরা এখন জেগে গিয়েছেন। যাঁরা বাধা দিচ্ছেন (উন্নয়নে), তাঁরা প্রত্যেকে সাজা পাচ্ছেন। দিল্লিতেও এমনই একটি সরকার ছিল, যারা কেন্দ্রের প্রকল্পকে কার্যকর হতে দিত না। আমরা তাদের বার বার বলতাম গরিবদের চিকিৎসার আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করো। কিন্তু ওরা শুনতই না। শুধু রাজনৈতিক হিসাবনিকেশ করতে ব্যস্ত থাকত। সেই জন্য দিল্লিবাসী ওদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষও স্থির করে নিয়েছেন, তাঁরাও তৃণমূলের নির্মম সরকারকে ‘সবক’ শেখাবেন এবং বিজেপির সরকার তৈরি করবেন।”

তৃণমূল সরকার রাজ্যের মানুষের সঙ্গে শত্রুতা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের তরুণ, কৃষক, মা-বোনেদের যথাসম্ভব সেবা করতে চাই। কিন্তু তৃণমূল সরকার এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে আপনাদের কাছে পৌঁছোতেই দেয় না। এদের মোদীকে নিয়ে সমস্যা, তা আমি বুঝি। বিজেপির সঙ্গে শত্রুতা, তা-ও আমি বুঝি। কিন্তু তৃণমূল তো পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই শত্রুতা করছে। তৃণমূল এ রাজ্যের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং মা-বোনদের সঙ্গে শত্রুতা করছে তৃণমূল।”


Share