Kolkata Municipal Corporation

আরসালান-করিমস-নিজামস-সহ ৪০টি রেস্তরাঁয় কোপ, দু’সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড হল লাইসেন্স, জানাল কলকাতা পুরসভা

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এই তালিকায় রয়েছে নিজামস, করিম’স, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান এবং শিমলা বিরিয়ানির মতো বেশ কয়েকটি পরিচিত রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণি।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২৬

কলকাতা পুরসভা এখনও পর্যন্ত ৪০টি খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করেছে। সোমবার রাত পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৩১। মঙ্গলবার আরও ন’টি রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। ফলে সাসপেন্ড হওয়া লাইসেন্সের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এই তালিকায় রয়েছে নিজামস, করিম’স, আরসালান, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, শিমলা বিরিয়ানির মতো বেশ কয়েকটি  তথাকথিত নামী রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির দোকান।

খাদ্যসুরক্ষা বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে কি না, পুরসভার আধিকারিকেরা তা খতিয়ে দেখতে গত এক সপ্তাহ ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে। বিভিন্ন রেস্তরাঁর পাশাপাশি নামী শপিং মলের ফুডকোর্টেও তল্লাশি চালানো হয়। মিষ্টির দোকান-সহ মোট ৫৯২টি রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণিতে অভিযান চালানোর পর পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি স্মিতা পাণ্ডের। স্মিতা বলেন, ‘‘পুর আইনে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণিগুলিকে জবাবদিহি এবং খাদ্যসুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

হেঁশেলে ঢুকে রান্নার পরিবেশ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মজুত খাবারের গুণমান এবং সেগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করেন আধিকারিকেরা। পুরসভা সূত্রের দাবি, অভিযানে কোথাও পচা-বাসি মাংস, কোথাও ছত্রাক ধরা মিষ্টি, আবার কোথাও নিম্নমানের মশলা ও নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। একাধিক নামী রেস্তরাঁ এবং ফুড কোর্টেও নিয়মবহির্ভূত ব্যবস্থার হদিস মেলায় সেগুলির নামও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হগ মার্কেট (নিউ মার্কেট) চত্বরে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’-এর সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে শুরু করে সব্জি ও মাছে ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার কিংবা মাপে কারচুপি— যে কোনও ধরনের অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোবে।


Share