Counterfeit Currency

উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিন্দুক থেকে কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার, এনআইএয়ের জালে পিএনবির ম‍্যানেজার

ধৃত পঞ্জাব ন‍্যাশনাল ব্যাঙ্কের ম‍্যানেজারের নাম অমিত কুমার। তাঁকে চন্ডীগড় থেকে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। সেখানকার এনআইএয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করিয়ে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। এই অর্থ পাচার চক্রে আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে বলে এনআইএ মনে করছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১০

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লকার থেকে উদ্ধার হল কোটি কোটি টাকার জাল নোট। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানকার একটি ব্যাঙ্কের সিন্দুক থেকে ১৭ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারচক্রের যোগ রয়েছে বলে অনুমান করছে তদন্তকারীরা। ঘটনায় ওই ব্রাঞ্চের ম‍্যানেজারকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ গ্রেফতার করেছে।

ধৃত পঞ্জাব ন‍্যাশনাল ব্যাঙ্কের ম‍্যানেজারের নাম অমিত কুমার। তাঁকে চন্ডীগড় থেকে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। সেখানকার এনআইএয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করিয়ে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। এই অর্থ পাচার চক্রে আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে বলে এনআইএ মনে করছে। নেপাল থেকে বসে এই কাজ কেউ করিয়েছে বলে তাঁরা মনে করছে।

ওই সিন্দুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ছাড়াও ব্যাঙ্কের আরও দুই আধিকারিক এনআইয়েরর আতশকাচের তলায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাঙ্কের সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবিকুমার কাঁসে। ব‍্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তিন জনকে সাসপেন্ড করেছে।

জানা গিয়েছে, গত ৯ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া অডিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা ১৪৮টি বান্ডিল জাল নোট উদ্ধার করেন। প্রতিটি বান্ডিলে এক হাজার করে নোট ছিল। সবকটি ৫০০ টাকার নোট। পুলিশের উদ্ধার হওয়া জাল নোটের মোট মূল্য ছিল ৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। কারেন্সি অডিট এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে জাল নোটের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিশাল কুমার নামে এক পার্ট-টাইম গৃহকর্মী কারেন্সি চেস্টের ভিতরে কাজ করার সময় টাকার বান্ডিল থেকে নোট সরিয়ে নিচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত মাসে সাহারানপুরের ঘণ্টাঘর এলাকার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের শাখা থেকে জয়পুরের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘কারেন্সি চেস্ট’-এ পাঠানো টাকায় ঘাটতি ধরা পড়ে। তার পরেই এই অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। জাল নোট পাচার এবং মজুতের অভিযোগের তদন্তে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছিল। সাহারানপুরের সদরবাজার থানার এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তে সাহারানপুরের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে তল্লাশি চালায়। পাশাপাশি হরিয়ানা এবং উত্তরাখণ্ডে তল্লাশি অভিযান চলে। সদর বাজার থানার পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের সূত্র ধরেই এনআইএ মামলা (RC-02/2026/NIA/ LKW) রুজু করে।

বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করায় চিন্তা বাড়ছে কেন্দ্রীয় সংস্থার। অর্থ পাচারচক্ররের সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত বা টাকা পাচারের গতিবিধি কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।


Share