Delimitation

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ডিলিমিটেশন! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানি, একাধিক অভিযোগ বিরোধীদের

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতেও উঠল একাধিক অভিযোগ। ওয়ার্ড ভাগ, ভোটার সংখ্যার অসঙ্গতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থের অভিযোগ তুলে সরব কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের একাংশ।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৬

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সোমবার দ্বিতীয় দিনের শুনানি চলছে। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের দাবি ও আপত্তি জানাতে পারছেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বামেদের প্রতিনিধিরা নিজেদের আপত্তি ও দাবি শুনানি অফিসারদের কাছে তুলে ধরছেন।

দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে এন্টালি ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক ওয়ার্ড নিয়ে অভিযোগ জানান প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক দেবেশ দাশ। তাঁর অভিযোগ, কোথাও রেললাইনের এপারে-ওপারে একটি ওয়ার্ডকে ভাগ করা হয়েছে, আবার কোথাও বড় রাস্তা পেরিয়ে ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করা হয়েছে। পুরনো ৫৬, ৫৮, ৬০, ৬১, ৬২ নম্বর ওয়ার্ড-সহ একাধিক এলাকায় এই সমস্যা রয়েছে বলে দাবি তাঁর।

সিপিআইএমের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের অভিযোগ, ডিলিমিটেশনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৩টি পুরনো ওয়ার্ডে ১১ হাজারেরও কম ভোটার থাকা সত্ত্বেও সেগুলির কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অথচ অন্য বেশ কিছু ওয়ার্ডে ২০ হাজারের বেশি ভোটার রাখা হয়েছে। ১৭ হাজার পর্যন্ত ভোটার সংখ্যার একটি মানদণ্ড রাখার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানিয়েছে বামেরা। ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কল্লোল মজুমদার।

কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের তরফে মোট ২৮টি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক ওয়ার্ডের সমস্যা নিয়ে ক্লাস্টার কমপ্লেনও রয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের বক্তব্য জানতে জনশুনানির আয়োজন করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না।

অন্য দিকে, সিপিআই নেতা প্রবীর দেবের দাবি, জনগণনার পরিবর্তে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে। ২০১১ সালের পর জনগণনার পূর্ণাঙ্গ আপডেট না হওয়া অবস্থায় এই প্রক্রিয়াকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ওয়ার্ডগুলিতে তুলনামূলক কম ভোটার থাকা সত্ত্বেও পরিবর্তন না করার অভিযোগ তুলে গোটা প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, সর্বদলীয় বৈঠক ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রবীর দেব।

তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বড় ওয়ার্ডের সঙ্গে দূরের ছোট ছোট অংশকে জুড়ে দেওয়া হলেও কাছাকাছি এলাকার কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও জনশুনানি বা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নতুন ওয়ার্ডগুলির ওয়ার্ড অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো কোথায় হবে, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরো ভিত্তিক শুনানির দাবি জানিয়েছেন বৈশানর চট্টোপাধ্যায়।

সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতেও রাজনৈতিক দলগুলির তরফে একাধিক অভিযোগ ও আপত্তি সামনে এল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই শুনানি।


Share