BJP Worker Arrested

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে চিকিৎসককে গালিগালাজ-হুমকি! গ্রেফতার পান্ডুয়ার বিজেপি কর্মী, পাঠানো হল চুঁচুড়া আদালতে

পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতে পাণ্ডুয়া থানা এলাকার ইটাচুনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তের নাম জিৎ ঘোষ। তিনি ওই এলাকারই সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে কর্তব্যরত চিকিৎসককে তিনি হেনস্থা করেছেন।

ধৃত বিজেপি কর্মীর নাম জিৎ ঘোষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২২

আবার বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এ বার ঘটনাস্থল হুগলির পান্ডুয়া। পুলিশ অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার ধৃতকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হবে হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাতে পাণ্ডুয়া থানা এলাকার ইটাচুনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তের নাম জিৎ ঘোষ। তিনি ওই এলাকারই সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে কর্তব্যরত চিকিৎসককে তিনি হেনস্থা করেছেন। তাঁকে সামলাতে এলে অকথ‍্য ভাষায় কর্তব্যরত কর্মীদের গালিগালাজ করারও অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়িত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জিৎ ঘোষ নামে বিজেপি কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রতিবাদে বেশ কিছু ক্ষণ চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। খবর পেয়ে পান্ডুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই বিজেপি কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্পণ পুরকাইত মঙ্গলবার পাণ্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মান্দারণের বাসিন্দা অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী জিৎ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহতিতার সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, কর্তব্যরত চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো এবং পিডিপিপি আইনের হাসপাতালের সম্পত্তি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার সকালে ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানো পরে চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হবে।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে পাণ্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদারের দাবি, অভিযুক্তেরা কেউ বিজেপি কর্মী নন। তাঁর দল বা তিনি কোনও ভাবেই এই ধরণের কার্যকলাপকে সমর্থন করেন না। কেউ যদি অন্যায় করে থাকেন তাহলে আইন মেনে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে।

তোলাবাজি, হুমকির অভিযোগ ২০০ জনের বেশি বিজেপির স্থানীয় কর্মীকে দল শোকজ করেছিল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে বেশ কয়েক জনকে দল সাসপেন্ডও করেছিল। বেশ কয়েক জন দলের বিধায়ককেও এই নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলও এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কোনও ভাবেই যে দল তোলাবাজি, হুমকি বরদাস্ত করবে না তা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তাতেও যে কোনও লাভের লাভ হয়নি তা এই ঘটনার পরে আবার স্পষ্ট হল।


Share