Punjab Election

নির্বাচনের আগেই পঞ্জাবে আম আদমি পার্টিতে ভাঙন, বিজেপিতে যোগ তিন বিধায়কের, অস্বস্তিতে কেজরিওয়ালের দল

২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিন বিধায়ক, অস্বস্তিতে কেজরিওয়ালের দল।

পঞ্জাবে আম আদমি পার্টিতে ভাঙন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:৫০

২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল আম আদমি পার্টি (আপ)। নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করলেও দলের অন্দরের অসন্তোষ সামাল দিতে পারল না আপ নেতৃত্ব। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন আপের তিন বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং, হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং চেতন সিং জৌরমাজরা। তাঁদের দলত্যাগ ঘিরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

শনিবারই ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল আপ। তার পরের দিন, রবিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন হরমিত সিংহ পাঠানমাজরা ও চেতন সিংহ জৌরমাজরা। সোমবার সকালে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক কুনওয়ার বিজয়প্রতাপ সিংহ। এরপর তিনজনই বিজেপিতে যোগ দেন।

কেন দল ছাড়লেন তিন বিধায়ক?

সানৌর কেন্দ্রের বিধায়ক হরমিত সিংহ পাঠানমাজরার সঙ্গে ভগবন্ত মান সরকারের সংঘাত তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং উন্নয়নের জন্য অনুমোদিত ১৭ কোটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত এই বিধায়ককে চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়।

অন্য দিকে, অমৃতসর নর্থের বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংহ একজন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে আপে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা ও পুলিশের গুলিচালনার ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের জুনে বিক্রম সিং মাজিথিয়ার গ্রেফতারি ও ভিজিল্যান্স ব্যুরোর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে আপ।

সামানার বিধায়ক চেতন সিং জৌরমাজরা ২০২২ সালে আপ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভার রদবদলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ বার সামানা কেন্দ্রে সুরজিৎ সিং রাখরাকে দায়িত্ব দেওয়াতেও অসন্তোষ তৈরি হয়।

প্রার্থী তালিকা ঘিরেই কি ক্ষোভ?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে আসে। প্রথম তালিকায় হরমিত ও চেতনের নাম ছিল না। তাঁদের কেন্দ্রে অন্য নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ায় টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আপের দাবি, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ওই নেতাদের আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। দুই বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানানোর কথাও জানিয়েছে দল। ভোটের আগে এই দলত্যাগ পঞ্জাবে আপের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।


Share