Nandan

চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নন্দনে বদলের ছোঁয়া! রং করে ঢেকে দেওয়া হল মমতার নামের ফলক, অক্ষত জ্যোতি বসুর স্মৃতিচিহ্ন

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নন্দন চত্বরে সরানো হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। রয়ে গিয়েছেন জ্যোতি বসু। একই দিনে চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশ হয়েছে। তো শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

রঙে ঢাকা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম, অক্ষত রইল জ্যোতি বসুর নাম
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:৫০

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। বদলের আবহে বড় বদল এবার সংস্কৃতিতেও। অর্থাৎ সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দন। এবার সেখানে ফলকে পরিবর্তন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নন্দন চত্বরে সরিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। সেটি রং করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামের ফলক অক্ষত রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

১৯৮০ সালে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এর পাঁচ বছর পর, ১৯৮৫ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়। পরবর্তীতে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়। এর পর নন্দন চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত একাধিক ফলক বসানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটেছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। আর সেই পালাবদলের পরই নন্দনের ফলকে দেখা গেল পরিবর্তন। মমতার নাম লেখা অংশটি রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জ্যোতি বসুর নামের ফলক আগের মতোই রয়েছে।

এদিনই নবান্নে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। সেই দিনই তোর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফলক রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। ফলত ঘটনাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আগের নীল-সাদা-কালো রঙের পরিবর্তে নতুন লোগোতে জায়গা পেয়েছে গেরুয়া রং। তার পরেই নন্দনে মমতার নামাঙ্কিত ফলক ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পালটা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “এখন আর কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দেখতে চান?” অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “এখন স্বৈরাচারী সরকার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গত ১৫ বছরের রাজ্যে কী কী হয়েছে।” সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নন্দনের ফলক ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।


Share