Forced Conversion

হিন্দু তরুণীদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের জন‍্য চাপ, কিং জর্জ মেডিকেলের অভিযুক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ উত্তরপ্রদেশ সরকারের

কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের মুখপাত্র অধ্যাপক কে কে সিংহ বলেন, “প্রতিষ্ঠান বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” সরকার এসটিএফের রিপোর্টের কপি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের উপাচার্যকেও পাঠানো হয়েছে।

কিং জর্জ মেডিকেল কলেজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:২০

মেডিকেল কলেজের হিন্দু তরুণী পড়ুয়াদের ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কথা না শোনায় ক‍্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদের হেনস্থাও করা হয়েছে বলে অভিযোগও রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের কিং জর্জ মেডিকেল কলেজে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স  সাত পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ১৩ জনকে অভিযুক্তের নাম তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ওই মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তা-ও বিস্তারিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের মেডিকেল এডুকেশন দফতরের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন দফতরের যুগ্মসচিব আনন্দকুমার ত্রিপাঠী। তার আগে, গত ২৫ আগস্ট উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের জমা দেওয়া তদন্ত রিপোর্টের উল্লেখ রয়েছে ওই চিঠিতে।

সূত্রের খবর, রিপোর্টে কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক রমিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, এক হিন্দু মহিলা রেসিডেন্ট চিকিৎসককে সম্পর্কে জড়ানোর ফাঁদে ফেলে। তার পরে নিকাহ করার জন‍্য চাপ দেয়। তার জন‍্য জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ করার জন‍্য চাপ দেওয়া হয়। গত ৯ জানুয়ারি রামিজকে গ্রেফতার করা হয়।

এসটিএফের রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মহিলা কর্মী ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের অভিযোগও উঠে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাই ধর্মান্তরণের জন্য অভিযুক্তেরা চাপ দিচ্ছিল। তা না অমান্য করায়, কয়েক জন চিকিৎসক ও কর্মী হেনস্থা করেছে। এমনকী, অনুপযুক্ত আচরণ করেছে। তাঁদের এ-ও অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেও মেডিকেল কলেজের কিছু চিকিৎসক ও কর্মী তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি বরং অভিযুক্তদের আড়াল করা হয়েছে। এ ছাড়াও, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তার জন‍্য অভিযোগকারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের মুখপাত্র অধ্যাপক কে কে সিংহ বলেন, “প্রতিষ্ঠান বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” সরকার এসটিএফের রিপোর্টের কপি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের উপাচার্যকেও পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর এসটিএফের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে কিং জর্জ মেডিকেল কলেজ। আগামী ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন উপাচার্য অধ্যাপক সোনিয়া নিত্যানন্দ। ওই বৈঠকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কাউন্সিলে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের ডিরেক্টর-সহ বাইরের সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে কিং জর্জ মেডিকেল কলেজের ডিজি হস্টেলের জিমে ধর্মীয় কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় সেটি বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। তার পরে আবার তা খুলে দেওয়া হয়। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ অধ্যাপক কে কে সিংহ। তাঁর দাবি, জিমে কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই সেটি বন্ধ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পর ফের খুলে দেওয়া হয়েছে।


Share