Delhi Business Loss

রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের সমাবেশ, দিল্লিতে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি CTI-এর

ইন্ডি জোটের রামলীলা ময়দানের সমাবেশের জেরে দীপাবলির আগে দিল্লিতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি CTI-এর।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:৫৩

দীপাবলির আগে গুরুত্বপূর্ণ রবিবারে রাজনৈতিক সমাবেশের প্রভাব পড়ল দিল্লির ব্যবসায়। ইন্ডি জোটের রামলীলা ময়দানের সমাবেশের জেরে রাজধানীতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করল ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, সমাবেশ ঘিরে যান চলাচল নিয়ে আশঙ্কা এবং ক্রেতাদের অনুপস্থিতির কারণে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে ব্যবসা কার্যত থমকে যায়। এর জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কুলি, দিনমজুর ও পরিবহণকর্মীরা।

CTI চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, দিল্লির প্রায় তিন লক্ষ দোকানের মধ্যে আড়াই লক্ষ দোকান রবিবার বন্ধ ছিল। অর্থাৎ, প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। চাঁদনি চক, চাওড়ি বাজার, সদর বাজার, খারি বাওলি এবং কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বিক্রিবাটা ছিল অত্যন্ত কম। রামলীলা ময়দান থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বাজারগুলিতে এই প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

CTI-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। পরিবহণ ও লজিস্টিক ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটন ক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, অসংগঠিত ক্ষেত্র এবং দিনমজুরদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

দিল্লির আশপাশের প্রায় ১০০টি শহর ও জনপদ থেকে বহু ক্রেতা রবিবার বাজারে আসেননি বলেও দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের। সোনিপত, পানিপথ, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ, নয়ডা ও মিরাট থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ কেনাকাটা এবং ব্যবসার প্রয়োজনে দিল্লিতে আসেন। দীপাবলির আগে এই রবিবারে বিক্রির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি CTI-এর।

এ ছাড়াও কনট প্লেস, করোলবাগ, পাহাড়গঞ্জ, চাঁদনি চক ও দরিয়াগঞ্জের মতো এলাকায় দু’হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বুকিং বাতিল হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, সমাবেশের আগে প্রায় ১০০টি বাজার সংগঠন কংগ্রেস নেতৃত্বকে চিঠি লিখে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, উৎসবের মরসুমে এমন কর্মসূচিতে বাজারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। তবে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির এই হিসাব CTI-এর দাবি।


Share