Special Intensive Rivision

মালদহে এসআইআর ইস্যুতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, জেলা শাসকের দফতর ঘেরাও, পাল্টা কটাক্ষ তৃণমূল-বিজেপির

মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী অভিযোগ তোলেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কৈফিয়ত না দিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৬

মালদহে এসআইআর ইস্যুতে কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বর। বুধবার মালদহ শহরে অবস্থান-বিক্ষোভ, মিছিল ও জেলা শাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে জেলা কংগ্রেস। জেলাশাসকের দফতরে ঢোকার ক্ষেত্রে ১০ জনের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিনিধি দলে মাত্র দু’জনকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেলাশাসকের গেটের সামনে ধরনায় বসেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা জেলা সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা।

এর আগে জেলা শাসকের দফতর থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। পাশাপাশি ইংরেজবাজার শহরে মিছিল করা হয়। গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান-বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেতারা। মৌসম বেনজির নূর বলেন, “SIR হতে দেব না—এ কথা মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন। অথচ এখন রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমেই এই এসআইআর করা হচ্ছে। এর জবাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও হেনস্থা করা হচ্ছে।

মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী অভিযোগ তোলেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কৈফিয়ত না দিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।

বিক্ষোভ চলাকালীন ইংরেজবাজার শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পথ অবরোধ করা হয়। পুলিশ জেলাশাসকের দপ্তরে ঢোকার পথে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেয়। পরে ঈশা খান চৌধুরী ও মৌসম নূরের নেতৃত্বে ১০ জনের প্রতিনিধি দলকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলের সঙ্গে দেখা হয়নি। স্মারকলিপি জমা দিয়েই ফিরে আসেন প্রতিনিধিরা।

জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঈশা খান চৌধুরী বলেন, “জেলাশাসক সরকারি আধিকারিকের মতো নয়, তৃণমূল নেতাদের মতো আচরণ করছেন।” তিনি জানান, আগামী দিনে মালদহ জেলা জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।

এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগের পাল্টা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দয়াতেই মৌসম নূর দু’বার এমএলএ ও দু’বার এমপি হয়েছেন। এতদিন পর তাঁর ঘুম ভাঙল।”

কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয় দলকেই একযোগে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র অম্লান ভাদুরি বলেন, “রাজ্যে কংগ্রেস অস্তিত্বহীন। তৃণমূল ও কংগ্রেস মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভোটের সময় কংগ্রেসই বলে তৃণমূল অবৈধ ভোটার দিয়ে ভোট করায়। তাহলে তারা কি চায় না অবৈধ ভোটারদের নাম কাটা হোক? নাটক না করে অবস্থান স্পষ্ট করুক।”


Share