Abhishek Banarjee

ঠাকুরনগরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, নাগরিকত্ব উদ্বেগের আবহে মতুয়া গড়ে তৃণমূলের বড় বার্তা

ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়াদের লাল নিশানে সাজা এলাকা, নাগরিকত্ব উদ্বেগে গুরুত্বপূর্ণ সফর। নিরাপত্তা জোরদার, রাজনৈতিক বার্তার দিকেই নজর।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরনগর
  • শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৩১

শুক্রবার গাইঘাটার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফরের ২৪ ঘণ্টা আগেই উৎসবের সাজে সেজে উঠেছে ঠাকুরবাড়ি। হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির থেকে বড়মার মন্দির সবই ফুলের সাজে মোড়া। বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে উড়ছে মতুয়াদের লাল নিশান।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সফরের রুটে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। আগে ঠিক ছিল, নদিয়ার তাহেরপুরের সভা শেষে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরনগর হাইস্কুল মাঠে নামবেন অভিষেক। পরে গাড়িতে করে ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এখন বনগাঁ শহরের কিষান মান্ডির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই দুপুর দুটো নাগাদ গাড়িতে করে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছবেন তিনি।

এই সফরকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মতুয়া সমাজের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত উদ্বেগ। বনগাঁ মহকুমায় প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার মতুয়া সম্প্রতি শুনানির নোটিস পেয়েছেন। নির্ধারিত নথির অভাবে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরেও এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা না মেলায় হতাশ মতুয়ারা এখন অভিষেকের ঠাকুরবাড়ি সফরের দিকেই তাকিয়ে।

গাইঘাটা, ঠাকুরনগর ছাড়াও বনগাঁ উত্তর-দক্ষিণ ও বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়াদের বড় অংশের বসবাস। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বনগাঁ থেকে গাড়িতে করে অভিষেককে ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে এসে রাজনৈতিক বার্তা দিতে এবং মতুয়া সমাজের মন জয় করতে চাইছে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব।

ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ও তাঁর কন্যা, বাগদার বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর অভিষেককে স্বাগত জানাবেন। মতুয়া পাগল ও গোঁসাইরা ফুল ছিটিয়ে তাঁকে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে নিয়ে যাবেন। সেখানে পুজোর পর গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির এবং শেষে বড়মার মন্দিরে পুজো দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বড়মার মন্দিরে মমতাবালা ঠাকুর ধান ও দূর্বা দিয়ে অভিষেককে আশীর্বাদ করবেন। পরে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের কার্যালয়ে পাগল, গোঁসাই ও দলপতিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব কিষান মান্ডির মাঠে তৈরি হওয়া অস্থায়ী হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেছেন। বিশ্বজিৎ দাস জানান, বনগাঁ থেকেই গাড়িতে করে ঠাকুরবাড়িতে যাবেন অভিষেক, তাই রাস্তার দু’ধারে মানুষের ভিড় থাকবে।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে ঠাকুরবাড়িতে গেলে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর অভিষেককে মন্দিরে পুজো দিতে বাধা দিয়েছিলেন। এবারও সফর নিয়ে বিজেপির তরফে আগাম সুর চড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি ও তৃণমূলপন্থী মতুয়াদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল ঠাকুরবাড়ি এলাকা। সেই অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতেই এ বার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে বনগাঁ পুলিশ জেলা ও প্রশাসন।


Share