Congress Poll Strategy

ভোটের আগে বড় বার্তা খাড়্গের: ভোটার তালিকা ও সংগঠনে জোর, ৫ জানুয়ারি থেকে ‘জি রাম জি’ আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনে কংগ্রেস

ভোটার তালিকা সংশোধন ও আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাড়তি নজরের বার্তা কংগ্রেসের। ‘জি রাম জি’ আইনের বিরোধিতায় ৫ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক খাড়্গের।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:৫০

আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে এই রাজ্যগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার বার্তা দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে সংগঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব।

এই বৈঠকেই ‘জি রাম জি’ আইনের বিরোধিতায় আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এটি ছিল কংগ্রেসের প্রথম ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। বৈঠকে মূলত নতুন আইনটির বিরুদ্ধে কী ভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েই বিস্তর আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব রাজ্যে শীঘ্রই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেখানকার নির্বাচনী কৌশলও চূড়ান্ত করা হয়।

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউপিএ আমলে চালু হওয়া গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প মনরেগা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার ‘জি রাম জি’ আইন এনেছে—এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই দল সরব। মনরেগায় সম্পূর্ণ অর্থ কেন্দ্র বহন করলেও নতুন আইনে রাজ্যগুলিকেও আর্থিক দায় নিতে হবে। এছাড়া প্রকল্পের নাম থেকে গান্ধীজির নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৈঠকে খাড়্গে বলেন, ‘কংগ্রেসের উত্তরাধিকার খর্ব করা হচ্ছে। গান্ধীজির নাম বাদ দেওয়াকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা।’

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ‘জি রাম জি’ আইনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কৌশলও স্থির করা হয়। দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে খাড়্গে ৫ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অতীতে জিএসটি সংস্কার বা রাফাল ইস্যুতে কংগ্রেস আন্দোলন শুরু করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখতে পারেনি।

এ দিনের বৈঠকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কর্নাটকে নেতৃত্বের দখল ঘিরে ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে চলা টানাপড়েন নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি শশী থারুরের উপস্থিতি ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করায় কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। তবে এই সব জল্পনা নিয়ে শশী থারুর বা কংগ্রেস নেতৃত্বের কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।


Share