Suvendu Adhikari

‘সরাসরি তৃণমূল করুন’, পানিহাটিতে রত্না দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিপিএমকে শাসকদলের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর

বৃহস্পতিবার পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের সঙ্গে দেখা করে স্থানীয় ভাবে কী প্রচার করতে হবে, সেই সুরই বেধে দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সিপিএম এবং তৃণমূলকে কটাক্ষ রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০১:০০

সিপিএমকে তৃণমূলে ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব‍্য, সিপিএম গত তিনটি নির্বাচনে ভোট কেটে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করেছে।

আরজি কর মেডিকেলের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মাকে পানিহাটি থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পানিহাটিতে রত্না দেবনাথের বাড়িতে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বেশ কিছু ক্ষণ তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিপিএমকে ভোট রাজনীতিতে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্রের সবার বাকস্বাধীনতা আছে। তিনি (কলতান দাশগুপ্ত) বলতেই পারেন। ওদের যেমন আন্দোলনে ভূমিকা ছিল, আবার আন্দোলন যাতে সঠিক পথে না যেতে পারে তার জন্য অন্তর্ঘাতও ছিল। তিনি জানান, “লড়াইটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি। ওঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি (রত্না দেবনাথ) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখবেন না সরাবেন।”

এর পরই শুভেন্দু সরাসরি সিপিএমকে তৃণমূলের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু বলেন, “আপনাদের আগে ঠিক করতে হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব রাখবেন না সরিয়ে দেবেন। যদি রাখতে চান তাহলে ‘বি-টিম’ হবেন কেন? সরাসরি (তৃণমূল) করুন।” তৃণমূল এবং সিপিএমকে সরাসরি আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “(তৃণমূল) করলে পুকুর বোঁজাতে পারবেন, প্রেমোটিং করতে পারবেন, ধর্ষণ করতে পারবেন, ছিনতাই করতে পারবেন, রাহাজানি করতে পারবেন, লোকের কাছ থেকে চিটিংবাজিও করতে পারবেন। তাহলে থানা কিছুই করবে না। তাঁদের আশির্বাদ থাকবে। আর যদি সরাতে চান তাহলে বিকল্প একটাই বিজেপি।” তাঁর কথায়, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির একমাত্র শক্তিশালী দল যাঁরা তৃণমূলকে সরকার থেকে উৎখাত করতে পারে। গত তিনটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২ কোটি ৩০ লক্ষ ভোট পেয়েছে। তৃণমূল ২ কোটি ৭০ লক্ষ পেয়েছে। আবার, ২০২১ সালে বিজেপি ভোট পেয়েছে ২ কোটি ২৮ লক্ষ। সেই নির্বাচনে তৃণমূল ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লক্ষ। গত ২০২৪ সালে বিজেপি ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ২৭ হাজার ভোট পেয়েছে। তৃণমূল ২ কোটি ৭৩ লক্ষের একটু বেশি ভোট পেয়েছে।

ভোটের পরিসংখ্যান জানিয়ে পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে কটাক্ষ করে বলেন, “এর পরেও আপনারা বলবেন সিপিএমকে ভোট দিলে, কলতানকে ভোট দিলে চোর নান্টুর ব‍্যাটা তিনি হারবেন?” ও (কলতান দাসগুপ্ত) তো ভোট কাটতে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সিপিএম যে নির্বাচনের সময় ভোট কাটাকাটি করে শাসকদলের সুবিধা করে দিয়েছিল তা নিয়ে একাধিক বার সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রে লোকসভাতে সুজন চক্রবর্তী ২ লক্ষ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তার ফলেই বিজেপির প্রার্থীকে ৭৬ হাজার ভোটে হারতে হয়েছে। এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস এখানে জয় নিশ্চিত করেছে।”

তিনি বলেন, “এ সব হয়েছে বলেই এরা (তৃণমূল) সাহস পেয়েছে। সঞ্জয় রায় বলুন বা সন্দীপ ঘোষ বলুন, বিনীত গোয়েল বলুন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলুন, তাঁদের এই বেপরোয়া মনোভাব রয়েছে কারণ গত নির্বাচনগুলিতে ভোট কাটাকাটি অঙ্কে জিতেছিল বলে।”

শুভেন্দু আরও বলেন, “যাঁরা চান আরও আরজি কর হোক, দুর্গাপুর আইকিউ সিটি হোক তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে থাকবেন। যাঁরা সরাতে চান, বিকল্প—বিশ্বাসযোগ্য বিজেপি। স্বাধীনতার পরে ২৫ বছর কংগ্রেস ছিল। টেস্টেড অ‍্যান্ড রিজেকটেড। ৩৪ সিপিএম ছিল। তাঁরাও টেস্টেড অ‍্যান্ড রিজেকটেড। ১৫ বছর তৃণমূল আছে। তাঁরাও টেস্টেড। তাঁদেরকেও রিজেকট করবে।”

বৃহস্পতিবার পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের সঙ্গে দেখা করে স্থানীয় ভাবে কী প্রচার করতে হবে, সেই সুরই বেধে দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share