Delhi Blast

‘ডাক্তারদের ইসলামি জঙ্গি নেটওয়ার্ক,’ দেশজুড়ে ষড়যন্ত্রের ছক! লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক উমর নবি, সেও একই মডিউলের সদস্য ছিল। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে চাপের মধ্যে ছিল এই ইসলামি জঙ্গিরা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নবি তাড়াহুড়ো করে একটি অসম্পূর্ণ আইইডি বোমা নিয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালায়।

ধৃতের নাম শাহিন শহিদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা চলন্ত গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। মারা গিয়েছে ১৩ জন। এ বার সেই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এল। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া মহিলা চিকিৎসক শাহিন শহিদ ফরিদাবাদ জঙ্গি মডিউলের এক সদস্য। শাহিন জেরায় স্বীকার করেছেন যে সে ও তার সহযোগী ডাক্তারদের দল মিলে ভারতজুড়ে সন্ত্রাস হামলার পরিকল্পনা করছিল।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন জানিয়েছে, তারা গত দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সংগ্রহ করছিল। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই-২০ গাড়িটি লালকেল্লা এলাকায় পৌঁছানোর আগে দিল্লির বিভিন্ন অংশ ঘুরেছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বিশ্লেষণ করেও তা-ই দেখা গিয়েছে। গাড়িটি দুপুর আড়াইটের দিকে কনট প্লেসে পৌঁছেছিল। তার পরে লালকেল্লার দিকে যায়। সেখানেই সন্ধ্যার পরে বিস্ফোরণ ঘটে।

জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক উমর নবি, সেও একই মডিউলের সদস্য ছিল। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে চাপের মধ্যে ছিল এই ইসলামি জঙ্গিরা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নবি তাড়াহুড়ো করে একটি অসম্পূর্ণ আইইডি বোমা নিয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালায়। সেটা কোনও ভাবে বিস্ফোরণ হয়। তবে তা কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে কোনও গর্ত বা ধাতব টুকরো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এটি কোনও আত্মঘাতী হামলা ছিল না। গাড়িটি কোনও লক্ষ্যবস্তু বা ভবনে ধাক্কা দেয়নি। বিস্ফোরণে উমর নবির মৃত্যু হয়। তার পরিচয় নিশ্চিত করতে মায়ের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

এই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে পাওয়া বিস্ফোরকের উপাদান ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরকের সঙ্গে অভিন্ন, যা একই সন্ত্রাসী মডিউলের যোগসূত্র স্পষ্ট করে। পুলিশের ধারণা, এই নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে সক্রিয় জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ গোষ্ঠীর সঙ্গে।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে—শাহিন নাকি সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জৈয়শ-ই-মহম্মদের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার-এর সঙ্গে। শাহিন ছিলেন সংগঠনের মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর সক্রিয় সদস্য। সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাদিয়া এই শাখাটি গঠন করেন। ভারতীয় বাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্য এই শাখাটি তৈরি হয়।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জঙ্গি চিকিৎসক শাহিনকে গ্রেফতার করে শ্রীনগরে নিয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, তিনি এলাহাবাদ মেডিকেল কলেজের (১৯৯৬-২০০১) ছাত্রী ছিল এবং পরে ফার্মাকোলজিতে এমডি সম্পন্ন করে। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি কানপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক ছিল। ২০১৩ সালে আচমকা নিখোঁজ হন এবং ২০২১ সালে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। এরপর তিনি আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং সেখানেই আরেক ইসলামি জঙ্গি চিকিৎসক মুজাম্মিলের সংস্পর্শে আসে। শাহিন এই জঙ্গি মডিউলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে সন্দেহভাজন।


Share