JNU

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে লং মার্চ ঘিরে উত্তেজনা, পড়ুয়া-পুলিশ সংঘর্ষে আহত বহু, আটক ৫০ পড়ুয়া

জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিভিন্ন নিয়ম কার্যকর করা, ছাত্র সংগঠনের পদাধিকারীদের বহিষ্কার এবং প্রস্তাবিত ‘রোহিত আইন’ নিয়ে একটি পডকাস্টে জেএনইউ-র উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে ছাত্রছাত্রীরা লং মার্চের ডাক দেন।

পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫২

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ডাকা একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দফতর পর্যন্ত ‘লং মার্চ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫০ জন পড়ুয়াকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিভিন্ন নিয়ম কার্যকর করা, ছাত্র সংগঠনের পদাধিকারীদের বহিষ্কার এবং প্রস্তাবিত ‘রোহিত আইন’ নিয়ে একটি পডকাস্টে জেএনইউ-র উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে ছাত্রছাত্রীরা লং মার্চের ডাক দেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) অমিত গোয়েলের দাবি, স্টুডেন্ট ইউনিয়নকে শুধুমাত্র জেএনইউ ক্যাম্পাসের ভিতরে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই মিছিল নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের দফতরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা না মেনে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। এই ঘটনায় এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার-সহ অন্তত ৩০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বসন্তকুঞ্জ (উত্তর) থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং মোট ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ইট ছোড়ার পাশাপাশি কয়েক জন পুলিশকর্মীকে কামড়েও দেন।

অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করছিলেন। পুলিশের তরফে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ করা হয়েছে এবং অনেককে জোর করে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদিতি মিশ্র ও প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ কুমারকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জেএনইউ-র শিক্ষক সংগঠনও। তাদের অভিযোগ, পুলিশের হামলায় কয়েক জন ছাত্রী-সহ বহু পড়ুয়া আহত হয়েছেন এবং ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পড়ুয়াদের সব দাবি মানা সম্ভব নয়। ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও হিংসার অভিযোগে যাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে, নিয়ম মেনেই তদন্তের পর সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


Share