Supreme Court

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশ, আধারের পাশাপাশি গ্রহণযোগ্য মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘কাট-অফ’ চূড়ান্ত

এ দিন সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলা ফের মেনশন করা হয়। আদালত নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়া সমস্ত নথি আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে ইআরও ও এইআরও-রা প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে তুলে দেবেন।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৩

ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আধার কার্ডের পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে নথি জমা পড়েছে, কেবল সেই নথিগুলিই ‘কাট-অফ ডেট’ অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।

এ দিন সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলা ফের মেনশন করা হয়। আদালত নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়া সমস্ত নথি আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে ইআরও ও এইআরও-রা প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে তুলে দেবেন।

শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়, মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেটের পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও জমা দেওয়া যাবে। বয়স এবং অভিভাবকত্বের প্রমাণ হিসেবে অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য হবে। আদালত আরও উল্লেখ করে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা পড়া নথিই কেবল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, “মাধ‍্যমিকের অ‍্যাডমিট কার্ড গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল, কারণ মাধ‍্যমিক পাস সার্টিফিকেটে জন্মের তারিখ এবং বাবার নাম থাকে না। মাধ‍্যমিকের অ‍্যাডমিট কার্ডে কী আছে, তার সম্পর্কে বাংলার বিচারকরা অবগত। তাই সেই নথির কথা বলা হয়েছে।”

এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, মাধ্যমিক পাস সার্টিফিকেটে জন্মতারিখ ও বাবার নাম উল্লেখ না থাকায় অ্যাডমিট কার্ডের কথা বলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বিচারকরা জানেন অ্যাডমিট কার্ডে কী তথ্য থাকে, তাই সেটিকে বিবেচনায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জবাবে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “কিন্তু আধারের মতোই স্ট‍্যান্ড অ‍্যালোন নথি হিসেবে মাধ‍্যমিকের অ‍্যাডমিট কার্ড ব‍্যবহার করা যেতে পারে না।”

“আমরা মাধ‍্যমিক পাস সার্টিফিকেটের কথা উল্লেখ করিনি, কারণ সেটা বাকি নথির মধ‍্যে রয়েছে। মাধ‍্যমিকের অ‍্যাডমিট কার্ড সেটাকে সাপ্লিমেন্ট করবে।” আইনজীবী নাইডু তার জবাবে বলেন, “সাপ্লিমেন্ট করবে, এস্টাবলিশ করবে না”। আইনজীবী গোপাল সুব্রমণ্যম বলেন, “মাধ‍্যমিকের অ‍্যাডমিট কার্ড তাঁদের কাছেও থাকে, যাঁরা মাধ‍্যমিকে বসেছেন কিন্তু পাশ করেননি।”

বিচারপতি বাগচি পাল্টা বলেন, “সেটা কাট অফকে মিট করে না।”

এরপরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেটের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া নথিই বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল কেন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বয়সের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় আধার কার্ডের গ্রহণযোগ্যতার প্রসঙ্গও তোলা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।


Share