Maoist Doctor Rafique

গোপনে মাওবাদী জঙ্গিদের চিকিৎসা করেন রফিক ওরফে মনদীপ! দন্ডকারণ‍্য অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়েছে জাল, কে এই সন্দেহভাজন চিকিৎসক?

চিকিৎসক রফিকের কর্মকাণ্ড মূলত চিকিৎসাকেন্দ্রিক ছিল। তবুও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ঘোষিত মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছিল। বর্তমানে এই চিকিৎসক রফিক পলাতক রয়েছ।

দন্ডকারণ‍্য অঞ্চল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কটক
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১১

গোপনে মাওবাদী জঙ্গিদের চিকিৎসা। মাওবাদী নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার দায়িত্ব তার কাঁধে। রফিক বলে এক চিকিৎসকের নাম সামনে আসতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, মাওবাদী জঙ্গি অধ্যুষিত দন্ডকারণ‍্য অঞ্চলে রফিক বেশি সক্রিয়। তবে তার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

গত কয়েক মাস ধরে বেশ কিছু মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। তাঁরা ফিরেছেন সমাজের মূল স্রোতে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিরাপত্তা আধিকারিকেরা জানতে পেরেছেন, চিকিৎসক রফিক আদতে পঞ্জাবের বাসিন্দা। এমবিবিএস পাশ করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-তে যোগ দেয়।

টাইম অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে দন্ডকারণ‍্য বনাঞ্চলের ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তৃত অংশ জুড়ে চিকিৎসক রফিকের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে। রফিককে মনদীপ বলেও পরিচিত। মূলত দণ্ডকারণ্যের বিশেষ করে আবুঝমাঢ়ের জঙ্গলে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই এলাকা মাওবাদী জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ঘন জঙ্গলের মধ্যেই টর্চলাইটের আলোয় জরুরি অস্ত্রোপচার করত। গুলিবিদ্ধ জখম মাওবাদী জঙ্গিদের চিকিৎসা দিতো। এ ছাড়াও, ম্যালেরিয়া, সাপের কামড়, পেটের রোগ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিকিৎসা করত বলেও জানা যায়। মাওবাদী জঙ্গিদের ব্যক্তিগত চিকিৎসার পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে চিকিৎসার প্রয়োজন মেটাতে তিনি একটি সমান্তরাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

২০১৩ সালে গ্রেফতার হওয়া মাওবাদী জঙ্গিদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক রফিকের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে। গোপনীয়তা ও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার কারণে তাকে তখন রফিককে “রহস্যময় ডাক্তার” নামে ডাকা হতো। ২০১৮ সালের নিরাপত্তা নথিতে ‘রিঙ্কি’ বলেও এক মহিলার নাম পাওয়া যায়। রিঙ্কিও এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। জানা যায়, রিঙ্কি রফিকের স্ত্রী। এই রিঙ্কি প্রবীণ মাওবাদী জঙ্গি নেতা প্রশান্ত বোসের সেবাযত্নে যুক্ত ছিল।

প্রাক্তন মাওবাদী নেতা এম. ভেঙ্কটরাজু ওরফে সিএনএন চন্দু জানিয়েছেন, চিকিৎসক রফিকই ছিল সংগঠনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক। রফিক গ্রামবাসী ও মাওবাদী জঙ্গিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষত পরিষ্কার এবং এমনকি গুলি বের করার কৌশল পর্যন্ত শিখিয়েছে। রফিক সীমিত উপকরণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে কিছু ম্যানুয়াল তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। যেখানে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি আদিবাসী বৈদ্যদের কাছ থেকে শেখা ভেষজ চিকিৎসারও উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও চিকিৎসক রফিকের কর্মকাণ্ড মূলত চিকিৎসাকেন্দ্রিক ছিল। তবুও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ঘোষিত মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছিল। বর্তমানে এই চিকিৎসক রফিক পলাতক রয়েছে।


Share