Rape Case

অসমে দুই নেপালি নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগ, নাকা তল্লাশিতে পড়ল ধরা, গ্রেফতার তিন জন

নির্যাতিতা দুই নাবালিকা নেপালি সম্প্রদায়ভুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ গাড়ি এবং শিকারিডাঙার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ল‍্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছ পুলিশ। তিন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডিব্রুগড়
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩

অসমে দুই নাবালিকাকে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগ। নববর্ষের আগের রাতে পুলিশের নাকা তল্লাশির সময় ধরা পড়ে অভিযুক্তেরা। অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ উদলগুড়ি জেলায় পুলিশের নাকা তল্লাশি চলছিল। সেই সময় অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত সংলগ্ন লালপানি পুলিশ আউটপোস্টে কাছে অসমের দিকে আসা একটি অলটো গাড়িকে দাঁড় করানো হয়। সেই গাড়িতে তিন জন যুবক এবং দু’জন নাবালিকা ছিল। সন্দেহ হতেই গোটা গাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ সূত্রের খবর, তল্লাশিতে গাড়ি থেকে মহিলাদের অন্তর্বাস এবং ব‍্যবহৃত কনডোম উদ্ধার হয়। এর পরেই পাঁচ জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, গাড়িতে থাকা দুই যুবক দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্তেরা মজবটের ধানসিরিকুটি এলাকা থেকে ওই দুই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। আসাম থেকে অরুণাচল প্রদেশ হয়ে ভুটান সীমান্তের ভৈরবকুণ্ডে নিয়ে যায়। সেখানে জোর করে তাদের মদ্যপান করানো হয়। ফেরার পথে শিকারিডাঙা এলাকায় তাদের ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর নাবালিকাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার সময় গাড়িটিকে পুলিশ আটক করে।

ঘটনায় তিন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম আজিবর রহমান, এনামুল হক ও রফিকুল ইসলাম। জেলা পুলিশের সুপার পদ্মনাভ বরুয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আজিবর রহমান ও ইনামুল হক একজন করে নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে। রফিকুল ইসলাম গাড়ির চালক হিসেবে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে। রফিকুল অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ লোপাটে সহায়তা করেছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিতাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরেই মামলা রুজু করা হয়েছে মাজবট থানার পুলিশ।

নির্যাতিতা দুই নাবালিকা নেপালি সম্প্রদায়ভুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ গাড়ি এবং শিকারিডাঙার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ল‍্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছ পুলিশ। তিন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share